27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নাগরিক হত্যার বিরোধে প্রতিবাদ সমাবেশ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নাগরিক হত্যার বিরোধে প্রতিবাদ সমাবেশ

ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বুধবার একটি প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশি নাগরিকের হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। সমাবেশের আয়োজন মানবাধিকার সংস্থা অধিকার করেছে এবং সমাবেশের পরিচালনা সংস্থার পরিচালক এ.এস.এম. নাসির উদ্দিন করেন। উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকের ওপর চলমান নির্যাতন থামাতে এবং দায়ী ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দাবি তুলে ধরেন।

সমাবেশের শিরোনাম ‘বাংলাদেশ-ভারত রক্তাক্ত সীমান্ত’ ছিল এবং এতে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক করা হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, গুম এবং ‘পুশইন’ (অধিকারের লঙ্ঘন) সংক্রান্ত অভিযোগ উত্থাপিত হয়। উপস্থিতরা উল্লেখ করেন যে, কোনো সরকারই সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকের ওপর এই ধরনের অপরাধ রোধে সক্ষম হয়নি এবং ভারতকে শুধু সীমান্তে গুলিবর্ষণই নয়, গুমের সঙ্গেও যুক্ত করা হচ্ছে।

বিগত সরকারের অধীনে গুমের শিকারদের পরিবারও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ২০২৩ সালে ধামরাই থেকে গুমের শিকার হন রহমতুল্লাহ নামের এক যুবক, যিনি ২৯ আগস্ট র‌্যাবের হাতে তুলে নেওয়া হয়। তার হাত ও চোখ বেঁধে তিনটি ঘরের একটিতে আট মাস ধরে আটক রাখা হয়। আট মাসের গুমের পর তাকে ভারত পাঠানো হয়, যেখানে তিনি সাড়ে সাত মাসের বেশি কারাগারে কাটান এবং পরে দেশে ফিরে আসেন। তিনি গুমের সঙ্গে জড়িতদের উপর কঠোর আইনি ব্যবস্থা চেয়ে বলেন।

সমাবেশে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও বক্তব্য রাখেন। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়েজুল হাকিম, জাতীয় গণফোরামের নেতা কামরুজ্জামান ফিরোজ, ‘স্ব প্রাণ’ সংগঠনের পরিচালক জারিফ রহমান, গুমের শিকার মো. বাতেনের স্ত্রী নাসরিন জাহান স্মৃতি এবং ফিরোজ খানের স্ত্রী আমেনা আক্তার বৃষ্টি তাদের মতামত প্রকাশ করেন। তারা সবাই একত্রে সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান এবং দায়ী ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার দাবি করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জোর দিয়ে বলেন যে, সীমান্তে চলমান হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা ভারতের আধিপত্যবাদী নীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে, দুই দেশের মধ্যে সমান ও ন্যায়সঙ্গত সীমান্ত নীতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বক্তারা উল্লেখ করেন যে, গুমের শিকারদের পুনরুদ্ধার ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের জন্য একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা উচিত। এছাড়া, সীমান্তে ঘটিত অপরাধের জন্য ভারতীয় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের অনুসরণ নিশ্চিত করা দরকার।

অধিকার সংস্থা সমাবেশে উল্লেখ করে যে, গুমের শিকারদের পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে এবং সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা দাবি করেন যে, গুমের শিকারদের মুক্তি ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন করা উচিত এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তদারকি বাড়াতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিরা একত্রে একটি চিঠি প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। চিঠিতে গুমের শিকারদের মুক্তি, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার এবং সীমান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসানের জন্য স্পষ্ট দাবি উল্লেখ করা হবে।

এই প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার এবং মানবাধিকার কর্মীরা একত্রে সীমান্তে চলমান মানবিক সংকটের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা ও আইনি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে সমাপ্তি টানেন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments