এলপিজি গ্যাস ব্যবসা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিচালিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের গ্যাস সরবরাহের গুরুতর অবস্থা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২৭টি কোম্পানি মোট ৫.৫ কোটি সিলিন্ডার বাজারে ছড়িয়ে দিয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ১.২৫ কোটি সিলিন্ডারই পুনরায় গ্যাস ভর্তি হয়েছে। বাকি ৪.২৫ কোটি সিলিন্ডার বর্তমানে খালি অবস্থায় রয়েছে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে বিশাল ফাঁক সৃষ্টি করেছে।
খালি সিলিন্ডারের পরিমাণ বাড়ার ফলে গ্যাস পরিবেশকদের অতিরিক্ত খরচের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। গ্যাসের ঘাটতি সরাসরি বাজারে দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে কাজ করছে, ফলে শেষ ব্যবহারকারীও উচ্চ মূল্যের শিকারে। অধিকাংশ গ্যাস কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পরিবেশকরা দেউলিয়া হওয়ার সঙ্কটে রয়েছে, এবং খালি সিলিন্ডার পূরণে অক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারী ভর্তুকির দাবি তীব্রতর হয়েছে।
সমিতি দাবি করেছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দ্রুত গ্যাসের মূল্য পুনর্বিবেচনা করুক এবং পরিবেশকদের ওপর আরোপিত জরিমানা ও হয়রানি বন্ধ করুক। এছাড়া, যদি এই চাহিদা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূরণ না হয়, তবে দেশের যেকোনো অঞ্চলে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রয় স্থগিত করা হতে পারে, যা অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
বিইআরসি প্রতি মাসে গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করে, সর্বশেষ সমন্বয় ৪ জানুয়ারি ঘোষিত হয়। তবে সমিতি উল্লেখ করেছে, এই সমন্বয় প্রক্রিয়ায় গ্যাস পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাজারের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ণ করেছে। মূল্য বাড়ার পাশাপাশি, ভোক্তা অধিকার সংস্থার দ্বারা চালু করা ক্যাম্পেইনও ভয় সৃষ্টি করছে, ফলে কিছু ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।
সমিতি আরও জানিয়েছে, জ্বালানি বিভাগ, বিইআরসি এবং এলপিজি কোম্পানিগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপই সমস্যার মূল সমাধান হতে পারে। আমদানি সংক্রান্ত বাধা দূর করা, গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা এবং পরিবেশকদের ন্যায্য শর্ত প্রদান করা হলে সংকটের তীব্রতা কমে আসবে। তবে বর্তমান সময়ে একতাবদ্ধ নীতি না থাকায় গ্যাসের ঘাটতি বাড়তেই থাকে।
বাজারে গ্যাসের দাম বাড়ার পাশাপাশি, পরিবেশকদের কমিশন বাড়ানোর দাবি তীব্র হয়েছে। সমিতি দাবি করছে, গ্যাস পরিবেশকের কমিশন ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশন ৪৫ টাকা থেকে ৭৫ টাকায় বৃদ্ধি পেতে হবে। এই পরিবর্তন গ্যাসের চাহিদা পূরণে পরিবেশকদের আর্থিক সহায়তা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি গ্যাসের সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী বাধা না থাকে, তবে শীতল ঋতুতে গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাসের চাহিদা তীব্রভাবে বাড়বে, যা মূল্যবৃদ্ধি ও ঘাটতির চক্রকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। তাই, দ্রুত মূল্য সমন্বয়, ভর্তুকি প্রদান এবং কমিশন বৃদ্ধি সহ সমন্বিত নীতি গৃহীত না হলে বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
অবশেষে, সমিতি জোর দিয়ে বলেছে, গ্যাসের ঘাটতি দূর করতে সরকার, বিইআরসি এবং গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। বর্তমান চ্যালেঞ্জের সমাধান না হলে গ্যাসের দাম আরও বাড়বে, ব্যবসা বন্ধ হবে এবং শেষ ব্যবহারকারীর ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।



