ঢাকা হাইকোর্টের দুই বিচারক আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। বিচারক আহমেদ সোয়েল ও ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত ব্যাচ, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম নিয়ে দায়ের পিটিশন গ্রহণ না করে। পিটিশনটি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করছিল, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
ব্যাচের সিদ্ধান্তের পেছনে উল্লেখযোগ্য ব্যাকলগের সমস্যা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান জানান, আদালতে বহু চলমান মামলা জমা থাকায় নতুন পিটিশন শোনার সুযোগ না পাওয়া যায়। তিনি এ বিষয়টি হাইকোর্টের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করেন।
পিটিশনটি দাখিলকারী সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ ইউনুস আলী আকন্দের কাছে ফেরত পাঠানো হয়। পিটিশনটি ৫ জানুয়ারি পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (পিআইএল) হিসেবে দাখিল করা হয়েছিল, যেখানে তিনি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে সংবিধান ও রেপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার (আরপিও) অনুযায়ী অবৈধ বলে দাবি করেন।
আকন্দের সঙ্গে বহুবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও তিনি কোনো মন্তব্য দিতে পারেননি। তার অপ্রাপ্যতা নিয়ে আদালতে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য করা হয়নি।
পিটিশনের মূল যুক্তি ছিল, সংবিধান ও আরপিওতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো ধারা না থাকায় এমন সরকারে নির্বাচন ও রেফারেন্ডাম অনুষ্ঠিত হওয়া আইনগতভাবে অনুমোদিত নয়। তিনি এ ভিত্তিতে নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের সময়সূচি বাতিলের দাবি তোলেন, যা পূর্বে ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছিল এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন নির্ধারণ করেছিল।
এছাড়া, পিটিশনে উচ্চ আদালতকে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল যে, জাতীয় নির্বাচন একটি কেয়ারটেকার সরকারী কাঠামোর অধীনে অনুষ্ঠিত হোক। এই দাবি অনুযায়ী, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবর্তে স্বতন্ত্র কেয়ারটেকার ব্যবস্থা গঠন করা উচিত বলে তিনি প্রস্তাব দেন।
হাইকোর্টের ব্যাচের এই প্রত্যাখ্যানের ফলে পিটিশনের বিষয়টি এখনো আদালতে অগ্রসর হবে না এবং নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়সূচি বজায় থাকবে। আদালতের ব্যাকলগের কারণে পিটিশনের শোনার সুযোগ না পেয়ে, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রচার কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই রায়ের ফলে সরকারী পক্ষের জন্য একটি স্বস্তির মুহূর্ত এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো এখনো আদালতে পুনরায় উত্থাপিত হবে না, ফলে নির্বাচনের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই রায়কে সরকারের পক্ষে একটি কৌশলগত জয় হিসেবে দেখছে। তারা দাবি করে, পিটিশনের দায়েরের সময়সীমা ও যুক্তি যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হয়েছে, তবে আদালতের ব্যাকলগের কথা স্বীকার করে তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা খোলা রেখেছে।
পরবর্তী ধাপে, পিটিশনের দায়েরকারী আইনজীবী আদালতে পুনরায় আবেদন করার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। যদি তিনি পুনরায় পিটিশন দায়ের করেন, তবে তা অন্য একটি ব্যাচের সামনে উপস্থাপিত হতে পারে, যেখানে ব্যাকলগের অবস্থা ভিন্ন হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, হাইকোর্টের এই রায় নির্বাচনের সময়সূচি নিশ্চিত করেছে এবং রেফারেন্ডামের পরিকল্পনা অক্ষুণ্ণ রেখেছে। রাজনৈতিক পরিবেশে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে স্পষ্ট হবে, বিশেষত যখন নির্বাচনের প্রস্তুতি তীব্রতর হবে এবং বিভিন্ন দল তাদের প্রচারমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।



