সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টুইস্টেড ম্যাচে নোয়াখালি এক্সপ্রেস টস হারিয়ে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামল। শুরুরই কয়েক ওভারে দলটি কঠিন অবস্থায় পড়ল; মাত্র ১৮ রানে তিনজন ব্যাটসম্যানের আউট হওয়ায় স্কোরবোর্ডে দ্রুত চাপ বাড়ে। ৪০ রানের চিহ্নে আরও দুইজন ব্যাটার শীঘ্রই বিদায় নিলেন, ফলে দলটি অর্ধেকের চেয়ে কম স্কোরে আটকে যায়।
প্রারম্ভিক পতনের পর হাবিবুর রহমান সোহান, সৌম্য সরকার, মুনিম শাহরিয়ার এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ধারাবাহিকভাবে গেড়ে ৬, ১, ২ ও ৪ রান যোগ করলেন। যদিও তাদের অবদান সীমিত ছিল, তবু তারা দলকে কিছুটা স্থিতিশীলতা প্রদান করল এবং স্কোরকে ৪০ রানের কাছাকাছি রাখল। এই পর্যায়ে দলটি মোট ছয়টি উইকেট হারিয়ে গিয়েছিল, যা পরবর্তী পারফরম্যান্সের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল।
মাঝের ওভারে মাঝারি গতি বজায় রেখে মাঝারি রিফ্লেক্সের সঙ্গে মাঝারি আউটপুটের চেষ্টা করলেন মাজ সাদাকাত। তিনি ২৪ ডেলিভারিতে ১৯ রান সংগ্রহ করলেও নাসির হোসেনের ক্যাচে আউট হন, ফলে দলটি ছয়টি উইকেটের পরেও একাধিক সুযোগ হারায়। এরপর দায়িত্ব নিলেন অভিজ্ঞ বাটসম্যান মোহাম্মদ নবী এবং পাকিস্তানি ব্যাটার হায়দার আলি, যাদের উপস্থিতি দলকে পুনরুজ্জীবিত করার আশা জাগায়।
নবী ও হায়দার আলির সংযোজনের পর দলটি দ্রুত পুনরুদ্ধার শুরু করে। উভয়ই একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ষষ্ঠ উইকেটের জন্য গড়ে ৬৪ বলের গুরুত্বপূর্ণ ৯০ রানের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। এই অংশীদারিত্ব নোয়াখালি এক্সপ্রেসকে পুনরায় স্কোরের পুঁজি তৈরি করতে সহায়তা করে এবং শেষ পর্যন্ত ১৩৩ রানে ৬ উইকেটের সঙ্গে ইনিংস শেষ করে। হায়দার আলি ৪৭ বলে ৩৬ রান করে আউট হন, আর নবী ৪০ বলে ৩২ রান করে অপরাজিত থেকে শেষ করেন।
দলটির মোট স্কোর ১৩৩/৬, যা ঢাকা ক্যাপিটালসের জন্য ১৩৪ রান লক্ষ্য নির্ধারণ করে। যদিও নোয়াখালি এক্সপ্রেসের ব্যাটিং পারফরম্যান্স প্রথমে দুর্বল ছিল, তবু নবী ও হায়দার আলির দৃঢ় অংশীদারিত্ব দলকে একটি প্রতিযোগিতামূলক টোটাল দিতে সক্ষম হয়েছে। এই স্কোরের ভিত্তিতে পরবর্তী ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে লক্ষ্য করে কৌশল নির্ধারণ করতে হবে, বিশেষ করে শুরুরই দ্রুত রন সংগ্রহের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
পরবর্তী রাউন্ডে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের কোচিং স্টাফ দলকে বলার সুযোগ দিয়েছেন যে, শুরুর উইকেটগুলো রক্ষা করা এবং মাঝের ওভারগুলোতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জয় নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হবে। দলটি এখনো শীর্ষস্থানীয় টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুত, তবে পরবর্তী ম্যাচে শুরুর ব্যাটিং পারফরম্যান্সে উন্নতি আনা জরুরি। এই ম্যাচের পরিসংখ্যানগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।



