27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষামাইলস্টোন স্কুলের অভিভাবকরা ভর্তি ও শিক্ষার বন্ধের আবেদন জানালেন

মাইলস্টোন স্কুলের অভিভাবকরা ভর্তি ও শিক্ষার বন্ধের আবেদন জানালেন

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরার দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে প্রশিক্ষণ বিমান ধসে আটজন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়ে একজন আহত হওয়ার পর, ওই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকরা ভর্তি ও শিক্ষার কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানিয়ে সরকারী দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটার কয়েক দিন পরই পরিবারগুলো শিক্ষার ধারাবাহিকতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তাই তারা দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।

দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, প্রশিক্ষণ বিমানটি ক্যাম্পাসের নিকটবর্তী এলাকায় ধসে আটজন শিক্ষার্থীকে নিহত করেছে এবং একটি শিক্ষার্থীকে গুরুতর আঘাতের ফলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই শোকঘণ্টা শোনার পর, মৃত ও আহত শিক্ষার্থীদের পিতামাতা ও অভিভাবকরা একত্রিত হয়ে সরকারকে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

প্রেরিত চিঠিটি দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে, যার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)ের চেয়ারম্যান, মাইলস্টোন স্কুলের গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক অন্তর্ভুক্ত।

চিঠির একটি কপি প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে প্রদান করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগই বিষয়টি জানে এবং সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নিতে পারে।

আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছে নিহত শিক্ষার্থীদের পিতামাতা ও মায়ের নাম: রাইসা মনির বাবার নাম সাহাবুল শেখ, আহত কাফি আহমেদের বাবার নাম মেরাজ আহমেদ, নুসরাত জাহান আনিকার বাবার নাম মো. আবুল হোসেন, মারিয়াম উম্মে আফিয়ার বাবার নাম আব্দুল কাদির, মাহিত হাসান আরিয়ানের মায়ের নাম মনিকা আক্তার, ওয়াকিয়া ফেরদৌস নিধির বাবার নাম মো. ফারুক হোসেন, বোরহানউদ্দিন বাপ্পির বাবার নাম মোহাম্মদ আবু শাহীন, ফাতেমা আক্তারের মায়ের নাম রূপা খানম এবং জোনায়েদ হাসানের বাবার নাম মো. আসলাম।

দুর্ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সাবেক সচিব এ কে এম জাফর উল্লাহ খানকে সভাপতি করে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশনকে ঘটনার কারণ, দায়িত্ব নির্ধারণ, ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিশ্লেষণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কমিশন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে, কয়েকজন ব্যক্তি ও সংস্থার দায়িত্ব নির্ধারণ করে এবং সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। তবে এখন পর্যন্ত সেই প্রতিবেদন জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি, এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কোনো কপি সরবরাহ করা হয়নি। এই অস্বচ্ছতা পরিবারগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভিভাবকরা মোট পাঁচটি দাবি উপস্থাপন করেছেন; এর মধ্যে তদন্তের ফলাফল দ্রুত প্রকাশ, সংশ্লিষ্ট পরিবারকে প্রতিবেদন প্রদান, ক্যাম্পাসে ভর্তি প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত, শিক্ষার কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং ক্ষতিপূরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই দাবিগুলো পূরণ না হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়বে।

শিক্ষা বিভাগের অভিজ্ঞ প্রতিবেদক হিসেবে, এই ধরনের ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করা যায়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত কাজই একমাত্র কার্যকর সমাধান।

আপনার মতামত কী? আপনি কি মনে করেন সরকার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কী ধরনের অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়? আপনার মন্তব্য শেয়ার করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments