আমির খান, যিনি তার ক্যারিয়ারে চয়নমূলক প্রকল্পের জন্য পরিচিত, ৭ জানুয়ারি ২৫ বছর আগে “মেলা” নামের চলচ্চিত্রটি মুক্তি দেন। এই ছবিটি মূলত তার ভাই ফয়সাল খানকে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। প্রকাশের পর থেকে ছবিটি বক্স অফিসে ব্যর্থতা দেখায় এবং সমালোচকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
আমিরের চলচ্চিত্র নির্বাচন প্রক্রিয়া সাধারণত সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল, তবে “মেলা”তে তিনি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন। নিজের ভাইকে প্রধান চরিত্রে বসাতে তিনি এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল ফয়সালের ক্যারিয়ারকে দ্রুত উন্মোচনের ইচ্ছা, যা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ফল না দিয়ে শেষ হয়।
চিত্রনাট্যটি শোলায়ের একটি উচ্চস্বরে, অতিরঞ্জিত রূপান্তর হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এতে আমির খান ধর্মেন্দ্রের কমিক্যাল সংস্করণে অভিনয় করেন, আর ফয়সাল খানকে অমিতাভ বচ্চনের আইকনিক চরিত্রের কঠোর ও চটকদার রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। উভয় অভিনেতার চরিত্রায়ন মূল ছবির স্বরকে বদলে দেয়, তবে তা দর্শকদের কাছে অতিরিক্ত নাটকীয়তা হিসেবে ধরা পড়ে।
বাণিজ্যিক দিক থেকে “মেলা” প্রত্যাশার চেয়ে কম ফলাফল দেখায়। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে টিকিট বিক্রি প্রত্যাশিত স্তরের নিচে ছিল, এবং পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে শোয়ের সংখ্যা কমে যায়। সমালোচকরা ছবির অতিরঞ্জিত শৈলী এবং দুর্বল স্ক্রিপ্টকে প্রধান ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিক্রয়ের নিম্ন ফলাফল সত্ত্বেও আমির খান ছবিটিকে নিয়ে কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। তিনি জানান, ছবির ব্যর্থতা তার জন্যই দুঃখের বিষয়, তবে তিনি এটিকে নিজের কাজের অংশ হিসেবে গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পুরো টিমের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ফলাফল প্রত্যাশিত না হওয়ায় সবাইই হতাশ হয়েছেন।
বছরের পর বছর পর, ফয়সাল খান তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ আটক এবং ক্যারিয়ার ধ্বংসের অভিযোগ তুলে আনেন। এই অভিযোগগুলো পরিবারিক সম্পর্কের জটিলতা এবং পেশাগত দ্বন্দ্বকে উন্মোচিত করে। আমির খান এই অভিযোগের মুখে “কী করা যায়” বলে স্বীকারোক্তি দেন এবং এটিকে নিজের ভাগ্যের অংশ হিসেবে দেখেন।
আমিরের মতে, পারিবারিক বন্ধন কখনও কখনও পেশাগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, নিজের পরিবারের সঙ্গে লড়াই করা কঠিন, যদিও বাহ্যিক পৃথিবীর সঙ্গে লড়াই করা সহজ হতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি নিজের কাজকে একটি শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
চিত্রের ব্যর্থতা এবং পরিবারের মধ্যে উদ্ভূত তর্কের পরেও, আমির খান ছবিটিকে তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্প তার জন্য মূল্যবান, এবং প্রত্যেকটি থেকে কিছু না কিছু শিখতে পারেন। “মেলা”র ক্ষেত্রে, তিনি দলের কঠোর পরিশ্রম এবং প্রত্যাশার মধ্যে পার্থক্যকে স্বীকার করেন।
সামগ্রিকভাবে, “মেলা” চলচ্চিত্রটি আমিরের ক্যারিয়ারে একটি চ্যালেঞ্জিং মুহূর্ত হিসেবে রয়ে গেছে। যদিও বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি, তবে এটি পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা এবং শিল্পের অস্থিরতা উন্মোচিত করেছে। ভবিষ্যতে আমিরের কাজের দিকনির্দেশনা কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে তিনি তার পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিখে নতুন প্রকল্পে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।



