চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে অবস্থিত ডিসি পার্কে আগামী শুক্রবার থেকে মাসব্যাপী ফুলের উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে দেশি‑বিদেশি মোট ১৪০ প্রজাতির রঙিন ফুলের প্রদর্শনী, জিপলাইন এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক সুবিধা থাকবে। পার্কের প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে এই রঙিন সাজসজ্জা দর্শনার্থীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহছানুল হক উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের সূচনা করবেন। এই বার্ষিক অনুষ্ঠানটি সীতাকুণ্ডে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যটন ও সাংস্কৃতিক জীবনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।
পার্কের পূর্ব ও পশ্চিম পুকুরের দু’পাশে সমানভাবে ফুলের বাগান সাজানো হয়েছে, যেখানে পূর্বে শুধুমাত্র এক পাশে সীমাবদ্ধ ছিল। পুকুরের দুই প্রান্তে সমানভাবে রঙিন ফুলের গুচ্ছ স্থাপন করা হয়েছে, ফলে দর্শনার্থীরা পুরো পার্কে সমানভাবে রঙের ছোঁয়া অনুভব করতে পারবেন। এই নতুন বিন্যাসের মাধ্যমে পার্কের সবুজ পরিবেশে অতিরিক্ত সৌন্দর্য যোগ হয়েছে।
ডিসি পার্কের এক পাশে সমুদ্রের দৃশ্য, মাঝখানে জোড়া পুকুর এবং পার্কের সবুজে ঘেরা পথ একসাথে মিলিয়ে একটি মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করেছে। পুকুরের চারপাশে গাছের ছায়া ও ফুলের গন্ধ মিলিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের মেলবন্ধন বাড়িয়ে তুলেছে। এই পরিবেশে ঘুরে বেড়ানো দর্শনার্থীরা প্রকৃতির স্নিগ্ধতা উপভোগ করতে পারবেন।
ফুলের সংগ্রহে লিলিয়াম, ম্যাগনোলিয়া, ক্যামেলিয়া ইত্যাদি বিদেশি প্রজাতি পাশাপাশি গাঁদা, জবা, কৃষ্ণচূড়া, চন্দ্রমল্লিকা ও অন্যান্য দেশি ফুল অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি প্রজাতি আলাদা রঙ ও গন্ধের মাধ্যমে পার্ককে রঙিন করে তুলেছে। এই বৈচিত্র্যময় ফুলের সমাহার দর্শকদের জন্য এক দৃষ্টিনন্দন ভিজ্যুয়াল ফেস্টিভ্যাল হয়ে উঠবে।
নতুন স্থাপনা হিসেবে জায়ান্ট ফ্লাওয়ার, ট্রি হাউস, ট্রিপল হার্ট শেলফ, ট্রেন, বক ও ময়ূরের মূর্তি ইত্যাদি নান্দনিক উপাদান যোগ করা হয়েছে। এই সৃষ্টিগুলি পার্কের নান্দনিকতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং শিশুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। প্রতিটি স্থাপনা পার্কের থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজাইন করা হয়েছে।
বাচ্চাদের জন্য আলাদা ফটক গঠন করা হয়েছে, যেখানে ছোটদের জন্য খেলনা, রঙিন স্লাইড এবং নিরাপদ বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই ফটকটি পার্কের মূল প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি অবস্থিত, ফলে পরিবারগুলো সহজে শিশুদের বিনোদন নিশ্চিত করতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলও এই এলাকায় উপস্থিত থাকবে।
পুকুরের দক্ষিণ পাশে জিপলাইন স্থাপিত হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের উচ্চতা থেকে পুকুরের দৃশ্য উপভোগের সুযোগ দেয়। জিপলাইনের মাধ্যমে তারা পুকুরের পূর্ব পার্শ্বের ফুলের বাগানে সরাসরি পৌঁছাতে পারবেন। নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলা এই ব্যবস্থা সব বয়সের মানুষের জন্য উপযুক্ত।
কায়াকিংয়ের জন্য নৌকা সরবরাহ করা হয়েছে, যা পুকুরে জলক্রীড়া উপভোগের সুযোগ দেয়। পুকুরের উত্তর‑পূর্ব কোণে খাবারের স্টল ও গ্রামীণ মেলা স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় খাবার ও হস্তশিল্পের প্রদর্শনী থাকবে। এই সব উপাদান একত্রে পার্কে একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদনমূলক পরিবেশ তৈরি করেছে।
মাসব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পরিকল্পনা করা হয়েছে; স্থানীয় গায়ক, নৃত্যশিল্পী এবং ব্যান্ডগুলো নির্দিষ্ট সময়ে পারফরম্যান্স দেবে। এই অনুষ্ঠানগুলো দর্শনার্থীদের জন্য অতিরিক্ত আনন্দের স্রোত নিয়ে আসবে এবং স্থানীয় সংস্কৃতির প্রচার করবে। প্রতিটি সন্ধ্যায় বিভিন্ন থিমের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
প্রবেশের টিকিট ৫০ টাকা নির্ধারিত, যা পূর্বের মতোই রয়ে গেছে। পার্কের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানান, পেশাদার ফটোগ্রাফার উপস্থিত থাকবে যাতে দর্শনার্থীরা স্মরণীয় ছবি তুলতে পারেন। স্বেচ্ছাসেবক দল নিরাপত্তা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং গাইডেন্সের কাজ করবে, ফলে দর্শনার্থীরা সুষ্ঠু সেবা পাবে।
জেলা প্রশাসন প্রায় ২০ লক্ষ দর্শনার্থীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করে এবং ইতিমধ্যে কিছু ফুলপ্রেমী পার্কে পৌঁছেছেন, যেমন নাসির উদ্দিন। পরিবারসহ সবাই এই রঙিন পরিবেশে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারেন। তাই, এই মাসে ডিসি পার্কে সময় কাটিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার জন্য পরিকল্পনা করা উচিত।



