যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনের একটি রিপাবলিকান হাউস সদস্যদের রিট্রিটে বললেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রক্ষা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত বহু স্থগিত বিষয় নিয়ে সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ট্রাম্পের মতে, এই আলোচনার মধ্যে বিশেষ করে পাঁচ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা এপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ৬৮টি এপাচি হেলিকপ্টার অর্ডার করেছিল, তবে ডেলিভারির দীর্ঘ বিলম্বের কারণে চুক্তি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
ট্রাম্প বলেন, মোদি যখন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুরোধ করেন, তখন তিনি নিজেকে “স্যার” বলে সম্বোধন করেন এবং সরাসরি সাক্ষাতের অনুমতি দেন। তিনি যোগ করেন, “হ্যাঁ, আমি তার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়েছি।” এই কথোপকথনটি রিট্রিটের সময় শেয়ার করা হয়, যেখানে ট্রাম্প ভারতীয় নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, মোদির সঙ্গে তার সম্পর্ক “খুবই ভালো” এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভারতের নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এই বন্ধুত্বের ভিত্তিতে, ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে তিনি ভারতীয় সরকারকে দ্রুত শুল্ক বাড়ানোর ক্ষমতা রাখেন, যা ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে শুল্ক নীতির প্রতি ভারতের অসন্তোষের ইঙ্গিতও পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “মোদি আমার ওপর খুব বেশি সন্তুষ্ট নন, কারণ এখন তাদের অনেক শুল্ক দিতে হচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়ের বিষয়ে মন্তব্য করেন, উল্লেখ করে ভারত রাশিয়ান তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। “তারা রাশিয়া থেকে তেল কেনা খুবই উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে—আপনারা জানেন,” তিনি বলেন।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়েও ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, এপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহের দীর্ঘ সময়সীমা এখনো শেষ হয়নি, তবে প্রক্রিয়া অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা এই বিষয়টি পরিবর্তন করছি,” এবং এপাচি হেলিকপ্টার অর্ডারের সংখ্যা পুনরায় উল্লেখ করে বলেন, “ভারত ৬৮টি এপাচি অর্ডার করেছিল।” তবে ডেলিভারির সুনির্দিষ্ট সময়সূচি বা অন্যান্য শর্তাবলী সম্পর্কে তিনি অতিরিক্ত কোনো তথ্য দেননি।
ট্রাম্পের মন্তব্যে মোদির প্রতি কিছু প্রশংসামূলক সুরও রয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদি খুব ভালো মানুষ। তিনি জানতেন আমি খুশি নই, তাই আমাকে খুশি করা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” এই কথায় তিনি ভারতীয় বাণিজ্যের দ্রুত শুল্ক বৃদ্ধি করার সম্ভাবনাকে উল্লেখ করেন, যা দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই রিট্রিটে ট্রাম্পের বক্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়নি, এবং এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ট্রাম্পের উক্তিগুলি যুক্তরাষ্ট্র‑ভারত সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ইঙ্গিত প্রদান করে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এপাচি হেলিকপ্টার ডেলিভারির অগ্রগতি এবং শুল্ক নীতির পরিবর্তন উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয় রক্ষা বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে, রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়ের হ্রাসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া‑প্যাসিফিক কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।
যদি ট্রাম্পের উল্লেখিত শুল্ক বৃদ্ধি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ভারতীয় রপ্তানি শিল্প ও আমদানি ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে, এপাচি হেলিকপ্টার সরবরাহের অগ্রগতি যদি দ্রুত হয়, তবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন পরিকল্পনা ত্বরান্বিত হতে পারে। এই দুই বিষয়ই ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র‑ভারত কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের রিট্রিটে করা মন্তব্যগুলো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রক্ষা ও বাণিজ্য বিষয়ক সরাসরি যোগাযোগের ইঙ্গিত দেয়, এপাচি হেলিকপ্টার ডেলিভারির দীর্ঘায়ু সমস্যার সমাধান নির্দেশ করে এবং শুল্ক নীতি ও রাশিয়ান তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করে। এই বিবরণগুলো যুক্তরাষ্ট্র‑ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।



