ঢাকায় ৭ জানুয়ারি আদালত ই‑কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেলকে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও চেক জালিয়াতির অভিযোগে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। একই রায়ে তাকে ১০,০০০ টাকার জরিমানা এবং জরিমানা না পরিশোধে এক মাসের অতিরিক্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। রায়ের সঙ্গে শামীমা নাসরিন, ইভ্যালির চেয়ারম্যান, একই মামলায় অপরাধমূলক অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়ে বেকসুর খালাস পান।
এই রায়ের ভিত্তি হল ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্ডার গ্রহণের পর পেমেন্ট না নেওয়া এবং চেকের মাধ্যমে অর্থ গোপন করার অভিযোগ। আদালত রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ না করা এবং ভুয়া চেক ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন গোপন করা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
রাসেলকে আরেকটি শর্তে এক মাসের অতিরিক্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে, যা জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে কার্যকর হবে। শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে একই মামলায় কোনো দোষারোপ না থাকায় তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হয়।
ইভ্যালি, যা এক সময় দেশে ই‑কমার্সের নতুন দিগন্ত হিসেবে দাবি করা হতো, বর্তমানে একাধিক আইনি জটিলতার মুখোমুখি। পৃথক ছয়টি মামলায় দম্পতির মোট শাস্তি ১৭ বছর কারাদণ্ড এবং দুই লক্ষ সাত হাজার টাকার জরিমানা হয়েছে।
গত বছর ১২ নভেম্বরের একটি মামলায় তাদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড আর ১৮ সেপ্টেম্বর ও ১৩ এপ্রিলের দুটি মামলায় তিন বছর করে শাস্তি আরোপিত হয়। এসব রায় ঢাকার বিভিন্ন আদালতে শোনানো হয়েছে এবং দম্পতির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধাক্কা সৃষ্টি করেছে।
মোহাম্মদপুরে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে র্যাবের অভিযানে প্রথমবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইভ্যালির কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। গ্রেপ্তার পর দম্পতি দীর্ঘ সময় জেলখানায় কাটিয়ে, ২০২২ সালে শামীমা এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাসেল জামিনে মুক্তি পান।
মুক্তির পর তারা ‘ইভ্যালি ২.০’ নামে নতুন ব্যবসা চালু করে, যেখানে গ্রাহকদের বকেয়া অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে ধারাবাহিকভাবে নতুন মামলার রায় ও সাজা ঘোষিত হওয়ায় আবার তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে এই দম্পতির বিরুদ্ধে শত শত প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং চেক জালিয়াতির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কিছু মামলায় ইতিমধ্যে সম্পত্তি জব্দ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।
ইভ্যালির পতন ও আইনি লড়াই বাংলাদেশের ই‑কমার্স খাতের জন্য সতর্কতামূলক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দম্পতি লোভনীয় অফার দিয়ে হাজার হাজার গ্রাহকের কয়েক শ কোটি টাকা গ্রহণ করে তা ফেরত না দিয়ে গোপনীয়ভাবে ব্যবহার করেছে।
রাসেল ও শামীমা দাবি করলেও যে, ব্যবসা পুনরায় চালু হলে সব বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব হবে, তবে একের পর এক কঠোর সাজা রায় তাদের এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, দম্পতির বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানি আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে নির্ধারিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোতে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী জিজ্ঞাসা এবং সম্পত্তি সুরক্ষার বিষয়ে অতিরিক্ত নির্দেশনা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থা এখনো ইভ্যালির আর্থিক লেনদেনের বিশদ বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা তৈরি করছে।
সারসংক্ষেপে, ইভ্যালি সিইও রাসেলকে এক বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপিত হয়েছে, আর শামীমা নাসরিনকে অপরাধমূলক অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক মামলার রায় এখনও কার্যকর হচ্ছে এবং পরবর্তী আদালত শোনানি শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে, যা ই‑কমার্স শিল্পে নিয়ন্ত্রক তদারকির গুরুত্বকে পুনরায় উজ্জ্বল করে তুলবে।



