20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকালীগঞ্জে জামায়াতের ৫০০‑এরও বেশি নেতা ও কর্মী বিএনপিতে যোগদান

কালীগঞ্জে জামায়াতের ৫০০‑এরও বেশি নেতা ও কর্মী বিএনপিতে যোগদান

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ৬ জানুয়ারি রাতের দিকে এক বিশাল সমাবেশে জামায়াত ইসলামী সংগঠনের বহু নেতা ও কর্মী বিএনপিতে প্রবেশের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশটি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও লালমনিরহাট‑২ আসনের প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুলের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের সাবেক উপজেলা আমির আব্দুল লতিফ মাস্টার ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পাঁচশো অধিক সদস্য দলবদ্ধ হয়ে নতুন রাজনৈতিক ঘাঁটিতে পা রাখে।

অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয় জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্রের সভাপতিত্বে, যেখানে তিনি উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে নতুন সংযোজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সমাবেশে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক শামসুজ্জামান সবুজ, সমাজসেবক আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন, গোড়ল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গজর উদ্দিন পাটোয়ারী এবং কালীগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মানিকও বক্তব্য রাখেন।

আবদুল লতিফ মাস্টার সমাবেশে উল্লেখ করেন, জামায়াতের বহু নেতা ও কর্মী দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংগঠনগত সমস্যার পর নতুন দিকনির্দেশনা খুঁজতে চান, তাই তারা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তিনি যোগদান প্রক্রিয়ার সময় এক গাছের তলে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় শপথ গ্রহণ করেন, যা উপস্থিত সকলের সম্মতি ও সমর্থন পায়।

অনুষ্ঠানে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারাও অংশ নেন। তারা সবাই একত্রে নতুন সংযোজনের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। সমাবেশে উপস্থিত সমাজের সুশীল প্রতিনিধিরা এই পদক্ষেপকে স্থানীয় রাজনৈতিক দৃশ্যের পরিবর্তনের সূচক হিসেবে দেখেছেন।

বিএনপি পক্ষের মতে, জামায়াতের এই বৃহৎ দলীয় পরিবর্তন তাদের রাজনৈতিক শক্তি বাড়াবে এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটের ভিত্তি বিস্তৃত করবে। রোকন উদ্দিন বাবুল, যিনি নিজে এই সমাবেশের আয়োজক, তিনি উল্লেখ করেন যে এই ধরনের সংযোজন পার্টির সংগঠনকে মজবুত করবে এবং ভোটারদের কাছে পার্টির নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি পৌঁছাতে সহায়তা করবে।

অন্যদিকে, জামায়াতের অভ্যন্তরে এই পদক্ষেপকে কিছুটা বিতর্কিত হিসেবে দেখা হয়েছে। কিছু সদস্যের মতে, রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসা সংগঠনের মূল লক্ষ্যকে বিচ্যুত করতে পারে, তবে নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে সবাই সম্মত হয়েছে।

এই ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে, বিএনপি নতুন সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় সভা এবং রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে। লক্ষ্য হল নতুন সদস্যদের পার্টির নীতি, সংগঠন কাঠামো এবং নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে অবহিত করা।

স্থানীয় বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, জামায়াতের এই বৃহৎ দলীয় পরিবর্তন লালমনিরহাটের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন গতিবিধি তৈরি করবে। বিশেষ করে, জামায়াতের ভিত্তি থাকা গ্রাম ও শহরতলির ভোটারদের সমর্থন এখন বিএনপির হাতে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপি এই সংযোজনকে পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করবে, বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিতে। নতুন সদস্যদের উপস্থিতি পার্টির ক্যাম্পেইন কার্যক্রমে অতিরিক্ত মানবসম্পদ সরবরাহ করবে এবং ভোটার সংযোগ বাড়াবে।

অবশেষে, রোকন উদ্দিন বাবুলের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশটি স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জামায়াতের বহু নেতা ও কর্মীর এই একত্রীকরণ পার্টির গঠন ও কৌশলগত দিক থেকে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সংযোজনের প্রভাব কীভাবে বিকশিত হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments