27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাএনবিআর ই-রিফান্ড সিস্টেম চালু, ভ্যাট রিফান্ড সরাসরি ব্যাংকে

এনবিআর ই-রিফান্ড সিস্টেম চালু, ভ্যাট রিফান্ড সরাসরি ব্যাংকে

ঢাকার এনবিআর সদর দফতরে আজ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভ্যাট রিফান্ডের জন্য নতুন ই-রিফান্ড সিস্টেম চালু করেছে। সিস্টেমটি চালু করার সময় চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান ৪৫.৩৫ লাখ টাকা তিনটি ভ্যাট কমিশনারেটের তিনটি করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে প্রদর্শন করেছেন।

নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুমোদিত রিফান্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতার নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে, ফলে ভ্যাট অফিসে শারীরিকভাবে যাওয়ার প্রয়োজন আর থাকবে না। এটি পূর্বে রিফান্ড প্রক্রিয়ায় দেখা দেরি, বিচক্ষণতা এবং প্রশাসনিক বাধা দূর করার লক্ষ্য নিয়ে গৃহীত হয়েছে।

ই-রিফান্ড মডিউলটি ই-ভ্যাট সিস্টেমের একটি অংশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে এবং এটি ফাইন্যান্স ডিভিশনের iBAS++ প্ল্যাটফর্ম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের BEFTN (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক) এর সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে রিফান্ডের আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং ট্র্যাকযোগ্য হবে।

করদাতারা তাদের মাসিক ভ্যাট রিটার্ন ই-ভ্যাটের মাধ্যমে জমা দিলে রিফান্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেমে প্রবেশ করবে। সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেট আবেদন যাচাই ও অনুমোদন করার পর নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে। এই প্রক্রিয়া সময়সীমা কমিয়ে দ্রুত রিফান্ড নিশ্চিত করবে।

এনবিআর এখন পর্যন্ত ১১৫টি রিফান্ড আবেদন পেয়েছে, যার মধ্যে তিনটি ব্যবসা ইতোমধ্যে রিফান্ড পেয়েছে। বাকি আবেদনগুলো ধীরে ধীরে প্রক্রিয়া করা হবে বলে চেয়ারম্যান জানান। মোট রিফান্ড দায়বদ্ধতা প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা, যা বিভিন্ন কর ও ভ্যাটের বকেয়া রিফান্ড অন্তর্ভুক্ত।

চেয়ারম্যানের মতে, নতুন সিস্টেম চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিফান্ড প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সময়সাপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে। রিফান্ডের জন্য আর বারবার ভ্যাট অফিসে গিয়ে অনুসরণ করতে হবে না, যা করদাতাদের কাজের চাপ কমাবে।

এছাড়া, এনবিআর আগামী বছর থেকে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভ্যাট সংগ্রহের কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং করদাতার দায়িত্ব স্পষ্ট হবে।

সিস্টেমের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে একটি সফরও নির্ধারিত হয়েছে; ১১ জানুয়ারি সফর শুরু হবে এবং ১৪ জানুয়ারি শেষ হবে। এই সফরটি নতুন সিস্টেমের কার্যকারিতা ও ব্যবহারিক দিকগুলো পর্যবেক্ষণ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত।

নতুন ই-রিফান্ড সিস্টেমের সংযোজনের ফলে ভ্যাট রিফান্ডের প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্রুত রিফান্ড পাওয়া ব্যবসার কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা আনবে এবং বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রিফান্ডের স্বয়ংক্রিয়করণ করদাতার জন্য আর্থিক পরিকল্পনা সহজ করবে এবং সরকারী তহবিলের ব্যবস্থাপনা উন্নত করবে। একই সঙ্গে, রিফান্ডের স্বচ্ছতা বাড়ার ফলে কর ফাঁকি কমে যাবে এবং রাজস্ব সংগ্রহে বৃদ্ধি পাবে।

সামগ্রিকভাবে, এনবিআরের এই উদ্যোগটি দেশের কর ব্যবস্থার আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রিফান্ডের দ্রুততা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে, সরকার ও করদাতার মধ্যে বিশ্বাসের সেতু গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

ভবিষ্যতে, এনবিআর ই-রিফান্ড সিস্টেমকে অন্যান্য করের রিফান্ড প্রক্রিয়াতেও সম্প্রসারিত করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যা দেশের সামগ্রিক কর ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments