ঢাকার মেট্রোপলিটন উচ্চতর বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজের আদেশে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) প্রাক্তন মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের মূল বিষয় হল, তার স্বীকৃত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীনভাবে বিশাল সম্পদ সঞ্চয় করা।
জিয়াউল আহসানকে ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট রাতের বেলা ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় গৃহবন্দি করা হয়। তার পদত্যাগের পর থেকে তিনি বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলায় জড়িত ছিলেন, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু মামলা অন্তর্ভুক্ত।
বুধবার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজের হিয়ারিংয়ে আদালত তার উপস্থিতি নিশ্চিত করে এবং গ্রেপ্তার আদেশ জারি করে। হিয়ারিংয়ে সহকারী রিয়াজ হোসেনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
মামলাটি ২৩ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিনের দ্বারা দাখিল করা হয়। তিনি জিয়াউল আহসানের স্বীকৃত আয়ের সঙ্গে অমিলপূর্ণ ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনেন।
অভিযোগের মধ্যে জিয়াউল আহসানের স্ত্রী নুসরাত জাহানকেও সহ-আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, তার স্বামীর সম্পদ গঠনে স্ত্রীটির সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।
দুদকের আরেকজন উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম, ২১ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার আদেশের আবেদন করেন। তিনি আদালতে মামলার তদন্তকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত হিয়ারিংয়ের পর জিয়াউল আহসানকে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার আদেশ দিয়ে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল, তার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা।
জিয়াউল আহসানের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফুর রহমান জানান, তার পক্ষ থেকে ওকালতনামা দাখিল করা হয়েছে, তবে কোনো জামিনের আবেদন করা হয়নি। তিনি আদালতে এই বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
অভিযোগের মূল দিকটি হল, জিয়াউল আহসান স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে স্বীকৃত আয়ের সঙ্গে অমিলপূর্ণ সম্পদ সঞ্চয় করেছেন। তার সম্পদের মোট মূল্য ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৪২ টাকা, যা তার বেতন ও পেনশন থেকে ব্যাখ্যা করা কঠিন।
এছাড়াও, ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রান্সজেকশন-২০১৮ ও ২০২০ সালের এফইপিডি সার্কুলার-৬ অনুযায়ী অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে তিনি নিজের ব্যাংকে ৫৫,০০০ মার্কিন ডলার জমা করেছেন বলে অভিযোগ। এই লেনদেনটি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়মের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।
তদন্তে প্রকাশ পায়, জিয়াউল আহসান বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিশাল পরিমাণ অর্থ জমা করে, তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় বহু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে তহবিল স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন। তিনি নিজের নামে আটটি সক্রিয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন।
সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে তার পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই আর্থিক লেনদেনগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আদালত এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পর্যায়ে রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়গুলো বিশদভাবে বিবেচনা করা হবে।



