জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথম জাতীয় নির্বাচনের জন্য নাম নিবন্ধন সম্পন্ন করলেও, সংগঠনগত অশান্তি ও নেতৃত্বের ফাঁক পার্টির প্রস্তুতিকে বিপর্যস্ত করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত নির্বাচনের আগে মাত্র চারেরো দিন বাকি, তবে দলটি কৌশল নির্ধারণ ও নির্বাচনী সিলেবাসের কাজ সম্পন্ন করতে পারছে না।
এনসিপি, যা ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে গঠিত হয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, সম্প্রতি জামায়াত‑ই‑ইসলামি-নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এক ধারাবাহিক পদত্যাগের মুখোমুখি হয়েছে। এই পদত্যাগের ফলে পার্টির মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং নেতৃত্বের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহে অন্তত পনেরোজন সিনিয়র নেতা পদত্যাগ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী স্টিয়ারিং কমিটি, সিলেবাস কমিটি এবং নীতি-গবেষণা শাখার সদস্যরা। তদুপরি, আরও কয়েকজন সদস্য কার্যকরীভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পার্টির সংগঠনগত সক্ষমতাকে আরও ক্ষয় করেছে।
মাঠের স্তরের নেতারা এই সময়ে পদত্যাগকে গুরুতর ব্যাঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা জানান, অফিস, মিডিয়া সম্পর্ক, প্রচার এবং আইসিটি বিভাগে বহু সেলসের প্রধান ও মূল সদস্য এখন আর পার্টির সঙ্গে যুক্ত নয় বা নিষ্ক্রিয়। ফলে দৈনন্দিন পার্টি কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং বাকি কাজগুলো সীমিত মাত্রায়ই চলছে।
একজন উচ্চপদস্থ এনসিপি নেতার মতে, দলটি এখন সম্পূর্ণভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয়। তিনি স্বীকার করেছেন যে, সময়ের সংকটের কারণে বিস্তৃত পরিকল্পনা থেকে সরিয়ে কেবল স্বল্পমেয়াদী কৌশলগত পদক্ষেপে মনোযোগ দিতে হচ্ছে।
সিনিয়র জয়েন্ট মেম্বার সেক্রেটারি আরিফুল ইসলাম আদিবও নেতৃত্বের সংকট স্বীকার করে জানান, পার্টি দ্রুতই একটি নতুন নির্বাচনী স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করবে এবং সিলেবাসের কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, সিলেবাসটি সিট-শেয়ারিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকাশ করা হবে।
নতুন কমিটির নেতৃত্বে পূর্বে উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা আসিফ মাহমুদ শজিব ভূয়াইনকে নিয়োগ করা হয়েছে, যিনি সম্প্রতি পার্টির মুখপাত্র হিসেবে যোগদান করেছেন। আরিফুলের সঙ্গে কথোপকথনের কয়েক মুহূর্ত পরই এনসিপি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে শজিব ভূয়াইনের দায়িত্বের পরিসর বাড়ানোর কথা জানায়।
এই পরিস্থিতিতে এনসিপি কীভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে দলটি এখনও নাম নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে এবং সিট-শেয়ারিং আলোচনার পর সিলেবাস প্রকাশের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনগত ঘাটতি ও নেতৃত্বের পরিবর্তন সত্ত্বেও, এনসিপি নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিতে দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করেছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি পার্টি দ্রুতই কার্যকরী কাঠামো পুনর্গঠন না করে, তবে তার ভোটার ভিত্তি ও নির্বাচনী প্রভাব সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে, নতুন মুখ ও কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমে পার্টি তার উপস্থিতি বজায় রাখতে পারে।
নির্বাচনের দিন নিকটে আসার সঙ্গে সঙ্গে এনসিপি কীভাবে তার অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধান করবে এবং ভোটারদের কাছে তার বার্তা পৌঁছাবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।



