দিল্লি হাই কোর্টে ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি মামলার মাধ্যমে হিন্দি চলচ্চিত্র ‘মাস্টি ৪’ এর কিছু দৃশ্যকে রেডিও জকী ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশীষ শর্মা তার নিজের ইনস্টাগ্রাম স্কিটের নকল বলে অভিযোগ করেন। শর্মা দাবি করেন যে ছবির একটি সিকোয়েন্স তার জানুয়ারি ২০২৪-এ পোস্ট করা ‘শাক করার ফলাফল’ শিরোনামের স্কিটের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যা প্রকাশের পর ১ কোটি একশো লক্ষেরও বেশি ভিউ পেয়েছে।
স্কিটটি সন্দেহভাজন হাস্যরসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং সামাজিক মাধ্যমে শর্মার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি জানান যে এই ভিডিওতে ব্যবহৃত ধারণা, চরিত্রের পারস্পরিক ক্রিয়া, ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতা এবং শেষের পাঞ্চলাইন তার মূল সৃষ্টির অংশ এবং কোনো অনুমতি ছাড়াই ছবিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
শর্মা আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং ছবির মোট লাভের হিসাব চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আরও দাবি করেন যে ছবির প্রযোজকরা তার কাজকে স্বীকৃতি না দিয়ে সম্পূর্ণভাবে নিজেরা উপস্থাপন করেছে, যা তার সৃজনশীল অধিকার লঙ্ঘন করে।
‘মাস্টি ৪’ ছবিটি মারুতি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্যান্য প্রযোজনা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এবং ২১ নভেম্বর ২০২৫-এ থিয়েটারে মুক্তি পায়। ছবিটি ইতিমধ্যে থিয়েট্রিকাল রিলিজ শেষ করেছে এবং ১৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিংয়ের জন্য প্রস্তুত। এই ডিজিটাল রিলিজের নিকটবর্তী সময়ে কোর্টে শর্মার আবেদন শোনার ফলে মামলাটির গুরুত্ব বাড়ে।
একজন একক বিচারক, বিচারপতি তুষার রাও গেদেলা, শর্মার অনুরোধ শোনার পর প্রযোজকদের নোটিশ জারি করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ছবির ডিজিটাল রিলিজের সময়সীমা বিবেচনা করে উভয় পক্ষকে তাদের মতামত উপস্থাপন করার সুযোগ দেওয়া উচিত এবং তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া এখনো উপযুক্ত নয়।
শর্মা আদালতে জোর দিয়ে বলেন যে তিনি স্কিটের একমাত্র স্রষ্টা এবং মালিক, এবং তার অনুমতি ছাড়া কোনো তৃতীয় পক্ষের ব্যবহার তার বৌদ্ধিক সম্পত্তি অধিকার লঙ্ঘন করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে স্কিটের মূল ধারণা, সংলাপের বিন্যাস এবং শেষের হাস্যকর মন্তব্য সবই তার নিজস্ব সৃষ্টিকর্মের অংশ।
প্রযোজক সংস্থাগুলি এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেনি, তবে কোর্টের নোটিশের পর তারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। মামলার ফলাফল ছবির ওটিটি রিলিজের সময়সূচি এবং আর্থিক দিক উভয়ই প্রভাবিত করতে পারে।
বিচারক গেদেলা উল্লেখ করেন যে ছবির রিলিজ চক্রের বর্তমান পর্যায়ে সংক্ষিপ্ত নোটিশ যথাযথ, এবং উভয় পক্ষকে যথাযথ সময়ে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি আদালতের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সৃজনশীল সম্পদের সুরক্ষায় গুরুত্বারোপ করেন।
শর্মা এই মামলায় দাবি করেন যে তার স্কিটের নকল কেবল আইনি লঙ্ঘন নয়, বরং তার সৃজনশীল প্রচেষ্টার প্রতি অবহেলা। তিনি আদালতে অনুরোধ করেন যে প্রযোজকরা ভবিষ্যতে এমন ধরনের বিষয়বস্তু ব্যবহার করার আগে সৃষ্টিকর্তার অনুমতি নেবে।
মামলাটির চূড়ান্ত রায় এখনও অমীমাংসিত, তবে আদালতের পরবর্তী শুনানিতে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনা হবে। এই সময়ে ‘মাস্টি ৪’ এর ওটিটি রিলিজের পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত হতে পারে, অথবা নির্দিষ্ট শর্তে চালু হতে পারে।
বিনোদন শিল্পে সৃজনশীল কাজের নকল নিয়ে এই ধরনের মামলা নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং ভবিষ্যতে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে অধিক সতর্কতা ও পারস্পরিক সম্মতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।



