লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় দইখাওয়া সীমান্তে বুধবার (৬ জানুয়ারি) ভোরের প্রায় ছয়টায় ২৫ বছর বয়সী রনি মিয়া পেটের গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হন। গুলির স্থান ছিল ৯০২ নম্বর মূল পিলারের কাছাকাছি, যেখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) টহল দলে গুলি চালানো হয়। রনি মিয়া, দইখাওয়া গোতামারি গ্রাম, হারুন ও রশিদের পুত্র, গুলির ফলে জরুরি চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।
গুলির পর রনি মিয়া তৎক্ষণাৎ স্থানীয় চিকিৎসা সেবার সহায়তায় রঙপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি শল্যচিকিৎসা ও রক্ত সঞ্চালন সহ বিস্তৃত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন, এবং বাংলাদেশ সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিজিবি) সহায়তায় তার স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনার আগে, রনি মিয়া একই সীমান্তে ২২ ডিসেম্বর গরু নিয়ে গিয়ে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। সেই সময়েও তিনি সীমান্ত পারাপারের সময় গুলির শিকার হন এবং চিকিৎসা নিতে হয়। দু’বারের এই ঘটনার ফলে তার শারীরিক অবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানিয়েছে, দইখাওয়া সীমান্তের ৯০২ নম্বর পিলারের পাশ দিয়ে প্রায় চার থেকে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক গরু চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতীয় ভূখণ্ডের প্রায় ১৫০ গজের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেন। এই সময়ে বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের শিষরাম ক্যাম্পের টহল দল একটি রাউন্ড গুলি চালায়, যার ফলে রনি মিয়া গুলিবিদ্ধ হন।
বিজিবি উল্লেখ করেছে যে, গুলিবিদ্ধ রনি মিয়ার বিরুদ্ধে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং পাসপোর্ট আইনের অধীনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
লালমনিরহাটের ১৫ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদি হাসান একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, সীমান্তে বারবার সতর্কতা সত্ত্বেও অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হ্রাসের কারণ। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা ও কঠোর শাস্তি অপরিহার্য।
বিএসএফের টহল দল গুলির সময় যে প্রোটোকল অনুসরণ করেছে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো বিবরণ প্রকাশিত হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানানো হয়েছে যে, গুলির কারণ ও প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে, সীমান্তে গরু চোরাচালান ও অবৈধ প্রবেশের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বর্তমানে রনি মিয়ার চিকিৎসা অবস্থা স্থিতিশীল, তবে শারীরিক ক্ষতির পরিমাণ ও পুনরুদ্ধারের সময়সীমা সম্পর্কে চিকিৎসা দল সতর্কতা বজায় রেখেছে। মামলার আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশিত হবে।



