ঢাকা শহরের বেইলি রোড, মিন্টো রোড, হেয়ার রোড ও গুলশান এলাকায় সরকার কর্তৃক নির্মিত বহু বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্টকে মন্ত্রিপাড়া নামে পরিচিত করা হয়। ২ নভেম্বর হাউজিং ও গণপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর এই সম্পদগুলোকে শুধুমাত্র মন্ত্রীর জন্য সংরক্ষণ করার উদ্যোগে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
১৯৯০‑এর দশকে এই এলাকায় মন্ত্রিদের বসবাসের জন্য বিশেষভাবে বাংলো ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়। তখন থেকে এই অঞ্চলকে মন্ত্রিপাড়া বলা হয়ে আসছে এবং মন্ত্রিসভার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা বাসস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে বর্তমানে নির্বাচনী কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার, বিচারপতি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই বাংলো ও ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন। তাদের উপস্থিতি মন্ত্রিপাড়া এলাকার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করেছে।
সরকারি নীতি অনুসারে সংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের জন্য পৃথক বাসস্থান নির্ধারিত থাকে, ফলে মন্ত্রিপাড়া এলাকায় তাদের অবস্থানকে ‘এয়ারমার্ক’ নীতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পরিদপ্তর ৭১টি বাসা চিহ্নিত করে মন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট করার প্রস্তাব দিয়েছে।
পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বেইলি রোড, মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে মোট ৪১টি বাংলো ও ফ্ল্যাট ২০১৩ সালে মন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত হয়েছিল। তবে গত বছর ২২ অক্টোবর গণপূর্ণ মন্ত্রণালয় ঐ নোটিফিকেশন বাতিল করে।
বাতিলের পর মন্ত্রিপাড়া এলাকায় অব্যবহৃত বাসার সংখ্যা বেড়ে যায়। এই ফাঁক পূরণের জন্য ২ নভেম্বর হাউজিং পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানকে আহ্বান করে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
কমিটি দ্রুত কাজ করে এবং ইতিমধ্যে তার প্রতিবেদন সরকারকে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে পূর্বের ৪১টি বাসার সঙ্গে নতুন ৩০টি বাসা যুক্ত করে মোট ৭১টি বাসা মন্ত্রীর জন্য নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
নতুন যুক্ত ৩০টি বাসার মধ্যে ১৯টি বেইলি রোডে, ৫টি গুলশানে, ৫টি ধানমন্ডিতে এবং একটিই মিন্টো রোডে অবস্থিত। এই বাসাগুলো বর্তমানে খালি বা অল্প ব্যবহারিক অবস্থায় রয়েছে, যা মন্ত্রিদের জন্য দ্রুত উপলব্ধ করা সম্ভব।
কমিটির আহ্বায়ক মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে জানান, “প্রতিবেদন অনুযায়ী ৭১টি বাসা মন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্টকরণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন সরকারের হাতে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত বাসা খালি থাকায় মন্ত্রিপাড়া এলাকায় মন্ত্রিদের বসবাস নিশ্চিত করা সম্ভব।
সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এই বাসাগুলো মন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত হবে না। তবে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার যদি অনুমোদন দেয়, তবে মন্ত্রিপাড়া এলাকায় মন্ত্রিদের উপস্থিতি পুনরায় নিশ্চিত হবে এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য বিকল্প বাসস্থান ব্যবস্থা করা হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে সরকারী সম্পদের ব্যবহারিকতা বৃদ্ধি পাবে এবং মন্ত্রিপাড়া এলাকার মূল উদ্দেশ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। একই সঙ্গে, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক বাসস্থান নিশ্চিত করা নীতি অনুসারে চলবে, যা ভবিষ্যতে সরকারি সম্পদের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।



