নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে দুইজন মূল পেসার, ম্যাট হেনরি এবং লুকি ফার্গুসন, সাম্প্রতিক আঘাত থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আসছেন। দুজনেরই পরিবারে নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার কথা, ফলে টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রয়োজনে পিতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
দলটি দীর্ঘ সময়ের পর প্রথমবারের মতো বেশিরভাগ প্রধান বোলারকে আবার দলে পেতে পারছে। হেনরি ও ফার্গুসনের পাশাপাশি, আঘাত থেকে সেরে ওঠা অ্যাডাম মিল্ন এবং দ্রুতগতির ওপেনার ফিন অ্যালেনও নির্বাচিত হয়েছে। ক্যাপ্টেন মাইকেল স্যান্টনার এবং মার্ক চ্যাপম্যানের প্রত্যাবর্তনও নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে সব খেলোয়াড়ই এখনো সম্পূর্ণ ফিট নয়। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেকের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা আলাদা এবং বিশ্বকাপের শুরুর আগে সবাই শারীরিকভাবে প্রস্তুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান পেসারদের ঘাটতি পূরণে জেকব ডাফি দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ডাফি, যিনি আঘাতের পর টি-টোয়েন্টি বোলিং র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন, বর্তমানে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন এবং এটি তার প্রথম বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা হবে।
দলীয় তালিকায় মূল স্কোয়াডে না থাকলেও রিজার্ভ হিসেবে কাইল জেমিসন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জেমিসনকে প্রয়োজনে মূল দলে যুক্ত করা হতে পারে।
টিম রবিনসনও দলে নাম লেখিয়েছেন। তিনি ২৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিয়ে সেঞ্চুরি করেছেন, যা তার জন্য একটি চমৎকার রেকর্ড। তবে দলের অন্যান্য খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সাময়িকভাবে দলে থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন।
নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা ৮ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে। দলটি ‘ডি’ গ্রুপে দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড ভারতীয় মাটিতে তিনটি ওয়ানডে এবং পাঁচটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে, যা ‘কিউইরা’ সিরিজ নামে পরিচিত। এই সিরিজগুলো দলকে টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে।
দলীয় তালিকায় ক্যাপ্টেন মাইকেল স্যান্টনার, ফিন অ্যালেন, মাইকেল ব্রেসওয়েল, মার্ক চ্যাপম্যান, ডেভন কনওয়ে, জেকব ডাফি, লুকি ফার্গুসন, ম্যাট হেনরি, ড্যারিল মিচেল, অ্যাডাম মিল্ন, জেমস নিশাম, গ্লেন ফিলিপস, রাচিন রাভিন্দ্রা, টিম সাইফার্ট এবং ইশ সোধি অন্তর্ভুক্ত। রিজার্ভ হিসেবে কাইল জেমিসন তালিকাভুক্ত।
দলীয় ব্যবস্থাপনা সব খেলোয়াড়ের ফিটনেস পর্যবেক্ষণ করে, টুর্নামেন্টের সময় প্রয়োজনীয় পিতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান করার সম্ভাবনা রাখবে। এই নীতি দলের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব না ফেলতে চায়।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য হবে শক্তিশালী শুরুর পারফরম্যান্স, যাতে গ্রুপে অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়। দলটি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং দ্রুত গতি সম্পন্ন বোলিংয়ের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করবে।
ক্লান্তি ও আঘাতের ঝুঁকি কমাতে, কোচিং স্টাফ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ মনোযোগ দেবে। পিতৃত্বকালীন ছুটি গ্রহণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ব্যাঘাত নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের এই সমন্বিত দলে ভক্তদের প্রত্যাশা উচ্চ, এবং দলটি বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের শক্তি প্রমাণ করতে প্রস্তুত।



