19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকর্ণাটক হেট স্পিচ ও হেট ক্রাইমস প্রতিরোধে নতুন আইন পাস করেছে

কর্ণাটক হেট স্পিচ ও হেট ক্রাইমস প্রতিরোধে নতুন আইন পাস করেছে

কর্ণাটক রাজ্যসভা গত মাসে হেট স্পিচ ও হেট ক্রাইমস প্রতিরোধে একটি আইন প্রস্তাব পাস করেছে, যা এখন রাজ্যের গভার্নরের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। এই আইনকে “কর্ণাটক হেট স্পিচ ও হেট ক্রাইমস (প্রতিরোধ) বিল, ২০২৫” বলা হয় এবং এটি হেট স্পিচের তদন্ত ও শাস্তি প্রক্রিয়া নির্ধারণের লক্ষ্য রাখে। শাসক দল কংগ্রেস দাবি করে যে হেট স্পিচের বৃদ্ধি বাস্তব হিংসায় রূপান্তরিত হতে পারে, তাই আইনগত পদক্ষেপ অপরিহার্য।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক মিডিয়া ও টেলিভিশনের বিস্তারের ফলে হেট স্পিচের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি গবেষণা অনুযায়ী ২০২৪ সালে সংখ্যালঘু, বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হেট স্পিচ ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জাতীয় নির্বাচনের সময় শীর্ষে পৌঁছেছে। এই প্রবণতা হেট স্পিচকে শুধুমাত্র শব্দের সীমা ছাড়িয়ে বাস্তব সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।

বিলে হেট স্পিচকে “যে কোনো প্রকাশ, যা প্রকাশিত, প্রচারিত বা জনসমক্ষে দেখা যায়, তা মৌখিক, মুদ্রণ, টেলিভিশন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হতে পারে” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে হেট ক্রাইমকে “হেট স্পিচের যোগাযোগ” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যদিও এতে স্পষ্টভাবে হিংসা ঘটতে হবে কিনা তা উল্লেখ করা হয়নি। হেট স্পিচের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা আইন প্রয়োগে কঠোরতা আনার উদ্দেশ্য বহন করে।

বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা রাজ্য সরকারকে সামাজিক মিডিয়া ও ডিজিটাল সেবা প্রদানকারীদের হেট স্পিচ হিসেবে চিহ্নিত বিষয়বস্তু মুছে ফেলতে আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে। আদেশ প্রাপ্ত প্ল্যাটফর্মকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিষয়বস্তু অপসারণ করতে হবে, না হলে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে এই ধরনের আদেশ কেন্দ্রীয় সরকারই দিতে পারে, তাই কর্ণাটকের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতে হেট স্পিচের বিরুদ্ধে কোনো একক ফেডারেল আইন না থাকলেও, বিভিন্ন অপরাধবিধি ধর্মীয় ভিত্তিতে গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টিকর কাজ এবং ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত করা কাজকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। এসব বিধান স্বাধীন মতপ্রকাশের ব্যতিক্রম হিসেবে কাজ করে, তবে হেট স্পিচের বিস্তৃত রূপকে নিয়ন্ত্রণে সীমিত ভূমিকা রাখে। এই প্রেক্ষাপটে কর্ণাটকের আইনকে একটি প্রাথমিক মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জাতীয় শাসক দল, বিজেপি, যা কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতায় রয়েছে এবং কর্ণাটকে বিরোধী অবস্থানে রয়েছে, এই পৃথক আইনকে অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করেছে। তারা যুক্তি দিয়েছে যে বিদ্যমান আইনি কাঠামো হেট স্পিচ মোকাবেলায় যথেষ্ট এবং অতিরিক্ত আইন প্রণয়ন স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করতে পারে। তবে কংগ্রেস সরকার দাবি করে যে বর্তমান বিধানগুলো হেট স্পিচের দ্রুত বিস্তার রোধে অপর্যাপ্ত।

বিলের সমর্থকরা উল্লেখ করেন যে হেট স্পিচের ফলে সৃষ্ট সামাজিক উত্তেজনা ও বাস্তব হিংসা রোধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ দরকার। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও কিছু আইন বিশেষজ্ঞ সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে, প্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যদি আইনটি অতিরিক্ত বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা হয়। বিশেষ করে সামাজিক মিডিয়ায় স্বয়ংক্রিয় ফিল্টারিং ও বিষয়বস্তু মুছে ফেলার প্রক্রিয়া কীভাবে ন্যায্যতা বজায় রাখবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

বিলটি গভার্নরের স্বাক্ষর পেলে কর্ণাটকে প্রথম রাজ্য হবে, যেখানে রাজ্য পর্যায়ে হেট স্পিচ নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন প্রয়োগের ক্ষমতা থাকবে। স্বাক্ষরের পর আইনটি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, বিশেষত যদি তা সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে বলে দাবি করা হয়। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগের সফলতা বা ব্যর্থতা অন্যান্য রাজ্যের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভারতের সামগ্রিক হেট স্পিচ মোকাবেলায় নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করতে পারে।

এই আইন প্রণয়নের পরবর্তী ধাপ হিসেবে রাজ্য সরকার সংশ্লিষ্ট বিভাগে নির্দেশনা জারি করবে, যাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো দ্রুত বিষয়বস্তু পর্যালোচনা ও অপসারণের প্রক্রিয়া গড়ে তোলা যায়। পাশাপাশি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে প্রশিক্ষণ ও পর্য

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments