ভেনেজুয়েলা রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার সহকারী দেলসি রোদ্রিগেজকে অস্থায়ী নেতায় নিযুক্ত করা হয়। এই ঘটনার পর বিরোধী নেতা মারিয়া করিনা মাচাদো স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি দেশের শাসনভার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত এবং তার জন্য জনগণের অনুমোদন রয়েছে।
মাচাদো এই মন্তব্যটি একটি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও সাহসের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপের ফলে মাদুরোকে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে এবং এটি ভেনেজুয়েলার জন্য একটি বড় অগ্রগতি। যদিও তিনি এই বছর ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি, তবু তিনি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মাচাদো এবং তার বিরোধী গোষ্ঠী ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয় দাবি করলেও, ট্রাম্প মাচাদোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে তার জনপ্রিয় সমর্থন পর্যাপ্ত নয়। মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপকে “সমৃদ্ধি, আইন শাসন এবং গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা” হিসেবে বর্ণনা করেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মাচাদোর নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, মাচাদোর দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যথেষ্ট সমর্থন ও সম্মান নেই, যদিও তিনি তাকে “একজন খুবই ভালো নারী” বলে প্রশংসা করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মাচাদোর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মাচাদো দেলসি রোদ্রিগেজের প্রতি তীব্র সমালোচনা করেন, তাকে “অবৈধ দমন নীতি গড়ে তোলার প্রধান স্থপতি” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা ও বিদেশে সবাই রোদ্রিগেজের ভূমিকা ও অতীতের দমনমূলক কাজ সম্পর্কে সচেতন। রোদ্রিগেজ, যিনি মাদুরোর উপ-প্রেসিডেন্ট ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক নিষেধাজ্ঞার শিকার হলেও, এখনও কোনো অপরাধমূলক অভিযোগের মুখে পড়েননি।
এই রাজনৈতিক উত্তেজনা ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নকে তীব্র করে তুলেছে। মাচাদোর নেতৃত্বের দাবি, ট্রাম্পের সমর্থনের অনুপস্থিতি এবং রোদ্রিগেজের অস্থায়ী অবস্থান একসঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন গতি সৃষ্টি করেছে। পরবর্তী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, যদি মাচাদোকে ব্যাপক জনসমর্থন না পাওয়া যায়, তবে তার নেতৃত্বের প্রচেষ্টা সীমাবদ্ধ হতে পারে। অন্যদিকে, রোদ্রিগেজের অস্থায়ী অবস্থানও দীর্ঘস্থায়ী না হতে পারে, বিশেষ করে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকে। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক দৃশ্যপট এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
সারসংক্ষেপে, মারিয়া করিনা মাচাদো স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি দেশের শাসনভার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সমর্থন না পেলে তার রাজনৈতিক যাত্রা কঠিন হতে পারে। একই সময়ে, দেলসি রোদ্রিগেজের অস্থায়ী নেতৃত্বের প্রতি জনগণের অবিশ্বাস এবং তার অতীতের দমনমূলক নীতির সমালোচনা মাচাদোর দাবিকে শক্তিশালী করেছে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই দ্বন্দ্বের সমাধান হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিসরে এই ঘটনাগুলি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।



