বিপিএল‑এর নতুন মৌসুমে সিলেট টাইটান্সের হয়ে যোগদান করা অলরাউন্ডার মইন আলি, শাকিব আল হাসানের সঙ্গে তার দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের কথা জানিয়ে দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।
মইনের শাকিবের সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় দুই দশক পুরনো; প্রথমবারের মতো দুজনের দেখা হয়েছিল শাকিবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে, এবং সাম্প্রতিক সময়ে আবার সাক্ষাৎ করে দীর্ঘ আলোচনায় লিপ্ত হয়েছেন। এই সাক্ষাতে শাকিবের দেশে ফিরে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেট খেলতে চাওয়ার ইচ্ছা সম্পর্কে জানা যায়, যা মইন তার নিজের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
মইন আলি বর্তমানে সিলেট টাইটান্সের হয়ে বিপিএল‑এ অংশ নিচ্ছেন। তার পূর্বের অভিজ্ঞতায় যুক্ত আরব আমিরাতের আইএল‑টি২০ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত, যেখানে শাকিবও একই টুর্নামেন্টে অন্য দলের হয়ে খেলেছিলেন। দুজনের এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে পারস্পরিক পরিচয়, পরবর্তীতে কানাডা ও ক্যারিবিয়ান লিগে (সিপিএল) একসাথে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করে।
প্রায় চার সপ্তাহ আগে ‘বিয়ার্ড বিফোর উইকেট’ নামের পডকাস্টে দুজনের কথোপকথন শোনা যায়। শোয়ের হোস্ট নাভিদ, যার স্ত্রী বাংলাদেশি, শাকিবকে জিজ্ঞেস করেন যে কোনো বিষয় আছে কি না যেটা তিনি আলোচনা করতে চান না; শাকিব উত্তর দেন যে তিনি সব কিছু নিয়ে কথা বলতে প্রস্তুত। মইন আলি এই মুহূর্তকে শাকিবের উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ স্বভাবের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে পডকাস্টের দ্বিতীয় অংশ শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।
মইন আলি শাকিবের সঙ্গে কাটানো সময়কে “দুর্দান্ত” বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, শাকিবের সঙ্গে কানাডার লিগে এবং পরে ক্যারিবিয়ান লিগে সময় কাটানো তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল। দুজনের খেলার ধরন ও পদ্ধতি সমান হওয়ায়, আলি শাকিবের সঙ্গে সমন্বয় সহজে ঘটতে পারা উল্লেখ করেন।
শাকিবের অবসর পরিকল্পনা ও দেশের প্রতি তার আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে আলি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি চান শাকিব তার ক্যারিয়ার শেষের দিকে বাংলাদেশে ফিরে এসে দেশের মাটিতে শেষ শটটি হিট করুক। তবে শাকিবের বর্তমান পরিস্থিতি, যা আলি “কঠিন ও পাগলাটে” বলে উল্লেখ করেন, তাকে তৎক্ষণাৎ দেশে ফিরে আসা থেকে বাধা দিচ্ছে। আলি তবুও শাকিবের প্রতিভা ও চরিত্রের প্রশংসা করেন; তিনি তাকে “বিশেষ প্রতিভাসম্পন্ন, দারুণ মানুষ” এবং “টপ গাই” হিসেবে উল্লেখ করেন, যদিও মাঝে মাঝে শাকিবের অপ্রত্যাশিত আচরণও থাকে।
মইন আলি শাকিবের সঙ্গে তার পরিচয় ২০১৯‑এর পূর্বে, তামিম ইকবালের সাথেও পরিচয় গড়ে ওঠার সময় থেকে শুরু হয়। সেই সময় থেকে শাকিব ও তামিমের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রয়েছে। বর্তমানে ৩৮ বছর বয়সী আলি, তার অলরাউন্ডার দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে সিলেট টাইটান্সের দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
বিপিএল‑এর এই মৌসুমে শাকিবের প্রত্যাবর্তন না হলেও, আলি শাকিবের দেশে ফিরে শেষ শট মারার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তিনি উল্লেখ করেন, শাকিবের জন্য দেশের মাটিতে শেষ ম্যাচটি তার ক্যারিয়ারের সমাপ্তি হিসেবে সর্বোত্তম হবে। শাকিবের বর্তমান পরিস্থিতি ও তার ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, আলি নিজে দেশের ক্রিকেটে অবদান রাখতে এবং শাকিবের প্রত্যাশা পূরণে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
মইন আলির এই মন্তব্যগুলো দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শাকিবের প্রত্যাবর্তন ও শেষ ম্যাচের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান, এবং বিপিএল‑এর পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আলি ও তার দল কীভাবে পারফর্ম করবে তা সকলের নজরে থাকবে।
শাকিবের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, তার বর্তমান সীমাবদ্ধতা এবং মইন আলির সমর্থন একসাথে দেশের ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে। শীঘ্রই শাকিবের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা দেশের ক্রিকেটের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



