গ্লাসগো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ২২তম সংস্করণে ২৫ ফেব্রুয়ারি নতুন ডকুমেন্টারি “Everybody to Kenmure Street” প্রথমবারের মতো স্ক্রিনে আসবে। এই চলচ্চিত্রের দায়িত্বে আছেন চিলি-স্কটল্যান্ডের পরিচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা ফিলিপে বুস্টোস সিয়েরা, আর এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে দুবারের ওস্কার বিজয়ী এমা থম্পসন যুক্ত আছেন। গ্লাসগো, স্কটল্যান্ডের এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটি স্থানীয় ও বৈশ্বিক দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হবে, যা দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে।
ডকুমেন্টারিটি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের স্যান্ড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্বপ্রিমিয়ার পেয়েছে, এরপর যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো ফেস্টিভ্যালে ইউকে প্রিমিয়ার হিসেবে প্রদর্শিত হবে। স্যান্ড্যান্সে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করা এই কাজটি, গ্লাসগোর চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করবে।
চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী ২০২১ সালের মে মাসে ঘটিত একটি ঘটনা থেকে উদ্ভূত। সেই সময়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের একটি ভোরবেলায় পোলকশিল্ডস, স্কটল্যান্ডের অন্যতম বহুমুখী পাড়া, সেখানে একটি ডিপোর্টেশন রেইড চালায়। এই রেইডের ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ রাস্তায় নেমে এসে তাদের প্রতিবেশীদের ডিপোর্টেশন রোধের জন্য প্রতিবাদ শুরু করে।
প্রতিবাদটি ইদের সকালেই শুরু হয়, যখন বহু পরিবার ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করছিল। কয়েকজন প্রতিবাদকারী দ্রুতই শত শত মানুষে রূপান্তরিত হয়ে কেনমুর স্ট্রিটে জমায়েত হয় এবং ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের গাড়ির পথ বন্ধ করে দেয়। আট ঘণ্টা চলা এই ধীরগতির মুখোমুখি অবস্থায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ সহমর্মিতা আন্তর্জাতিক সংবাদে শিরোনাম হয়ে ওঠে।
চলচ্চিত্রটি ঐ দিনের জনসাধারণের শুট করা ভিডিও, আর্কাইভ ফুটেজ এবং পুনর্নির্মিত দৃশ্যের সমন্বয়ে গঠিত। কাস্টের মধ্যে সিইনেমাটোগ্রাফার কির্সটিন ম্যাকমাহন পরিচালিত সেট-ডিজাইন করা দৃশ্য রয়েছে, যেখানে অভিনেতারা গোপনীয়তা চাওয়া অংশগ্রহণকারীদের সাক্ষ্য সরাসরি পুনরায় উপস্থাপন করে। এই পদ্ধতি দর্শকদেরকে ঘটনাটির বাস্তবতা ও মানবিক দিকগুলো সরাসরি অনুভব করতে সাহায্য করে।
ফিলিপে বুস্টোস সিয়েরার প্রথম ডকুমেন্টারি “Nae Pasaran” ২০১৮ সালে গ্লাসগো ফেস্টিভ্যালের সমাপনী গালা হিসেবে বিশ্বপ্রিমিয়ার পেয়েছিল। ঐ চলচ্চিত্রটি ১৯৭০-এর দশকে চিলির রোলস রয়েস কারখানার শ্রমিকদের বয়কটের মাধ্যমে জেনারেল অগুস্তো পিনোচেটের শাসন শেষ করতে সাহায্য করার গল্প বলে। “Nae Pasaran” বিএফটিএ স্কটল্যান্ড অ্যাওয়ার্ডে সেরা চলচ্চিত্রের খেতাব অর্জন করেছিল, যা বুস্টোস সিয়েরার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়িয়ে দিয়েছিল।
“Everybody to Kenmure Street” এর প্রযোজনা গ্লাসগো ভিত্তিক প্রোডাকশন হাউস ব্যারি ক্রেরার সিইও সিয়ারা ব্যারির তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে। ডেবেসারস ফিল্মসের সঙ্গে সহযোগিতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে, যা স্থানীয় চলচ্চিত্র শিল্পের সমর্থন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মডেল হিসেবে কাজ করে।
ডকুমেন্টারির নির্মাণে ব্যবহৃত সমষ্টিগত ভিডিও ও সাক্ষ্যগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বেচ্ছাসেবী অবদানের ফল। এই পদ্ধতি কেবল ঘটনাটির স্বচ্ছতা বাড়ায় না, বরং সম্প্রদায়ের স্বয়ংসম্পূর্ণ নথি সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরে। চলচ্চিত্রটি দেখার মাধ্যমে দর্শকরা পোলকশিল্ডসের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি ও ঐক্যের শক্তি সম্পর্কে গভীর ধারণা পাবে।
গ্লাসগো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজকরা এই চলচ্চিত্রকে উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শকরা এই ধরনের সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়বস্তুর মাধ্যমে চলচ্চিত্রের নতুন দিক আবিষ্কার করতে পারবেন। ফেস্টিভ্যালের সময়সূচিতে এই ডকুমেন্টারির স্ক্রিনিংয়ের পাশাপাশি প্যানেল আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর সেশনও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই চলচ্চিত্রের প্রকাশ গ্লাসগোর সাংস্কৃতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনার পুনর্নির্মাণ নয়, বরং সম্প্রদায়ের সংহতি, মানবিক সহনশীলতা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার বার্তা বহন করে। গ্লাসগো ফেস্টিভ্যালে এই কাজের প্রদর্শনী স্থানীয় নাগরিকদের গর্বের বিষয় হবে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে স্কটল্যান্ডের কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করবে।



