দ্বিতীয় ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করতে সরকার রিয়েল‑টাইম তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এই ব্যবস্থা ভোটের সময় কোনো ব্যাঘাত বা সহিংসতা ঘটলে তা তৎক্ষণাৎ শনাক্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।
গৃহ মন্ত্রণালয় আপাতত উপজেলা, জেলা, বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় স্তরে পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই কক্ষগুলোতে তথ্য প্রবাহের তত্ত্বাবধান করে প্রয়োজনীয় সাড়া নিশ্চিত করা হবে।
প্রার্থীদের নিরাপত্তা বিষয়টি সরকারী অগ্রাধিকারে রয়েছে এবং ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রদান করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রয়োজন হলে পুলিশ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
পুলিশ, আনসার, বাংলাদেশ সীমানা রক্ষী বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সদস্য ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। এই প্রশিক্ষণগুলোতে আইন প্রয়োগের মৌলিক দক্ষতা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত।
সিসিটিভি এবং বডি ক্যামেরার ব্যবহার সম্পর্কিত প্রশিক্ষণও চলমান এবং জানুয়ারি মাসের শেষের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। ক্যামেরা সিস্টেমের মাধ্যমে ঘটনার রেকর্ডিং ও প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহে বড় আকারের অনুষ্ঠানগুলো নিরাপদে পরিচালিত হয়েছে, যা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এই সফলতা নিরাপত্তা কর্মীদের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলছেন, এখন নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মবিশ্বাস আগের চেয়ে বেশি। এই আত্মবিশ্বাসই ভোটের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনের দিন পর্যন্ত ৩৭ দিন বাকি থাকায় সরকার সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে বলে নিশ্চিত করেছে। প্রস্তুতির স্তর উচ্চ এবং কোনো অনিশ্চয়তা দূর করার জন্য সব দিক থেকে কাজ চলছে।
ধর্মীয় বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটে অংশগ্রহণ বাড়াতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা বাড়ানো হবে। ইমাম, পুরোহিত ও পাদ্রীদের মাধ্যমে মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় সচেতনতা প্রচার করা হবে।
সামগ্রিকভাবে ভোটারদের জন্য তথ্যপত্র প্রস্তুত করে দেশব্যাপী বিতরণ করা হবে। এই পত্রিকাগুলোতে ভোটের প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও নিরাপত্তা নির্দেশনা থাকবে।
ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নির্বাচনী ক্যারাভান চালু করা হয়েছে। বর্তমানে দশটি ক্যারাভান দল, প্রত্যেকটিতে দশটি গাড়ি রয়েছে, যা বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরছে।
ক্যারাভানের সংখ্যা দ্বিগুণ করে মোট বিশটি দল করা হবে, যাতে দেশের ৪৯৫টি উপজেলা, বিশেষ করে ভোলা মতো দূরবর্তী ও দ্বীপাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছানো যায়। এই বিস্তৃত প্রচারাভিযান ভোটারদের সরাসরি তথ্য সরবরাহে সহায়ক হবে।
ক্যারাভান কার্যক্রম জানুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত চলবে, যাতে শেষ মুহূর্তের ভোটারদেরও তথ্য পৌঁছায়। এই সময়সীমা নির্বাচনের পূর্ব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য রাখে।
ডাকযোগে ভোটের জন্য মোট ১,৫৩৩,৬৮২টি পোস্টাল ব্যালট প্রস্তুত করা হয়েছে। এই সংখ্যা নির্বাচনের অন্তর্ভুক্ত সকল ভোটারকে দূরবর্তী স্থানে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করবে।
সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলো ভোটের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে লক্ষ্যভেদী। পরবর্তী পর্যায়ে ভোটের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রস্তুতির প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে।



