20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসারংপুরে শীতের পোশাকের বিক্রি দ্বিগুণের আশায় তীব্র ঠাণ্ডা বাজারে প্রভাব

রংপুরে শীতের পোশাকের বিক্রি দ্বিগুণের আশায় তীব্র ঠাণ্ডা বাজারে প্রভাব

দীর্ঘস্থায়ী শীতল তরঙ্গ দেশের বেশিরভাগ অংশকে প্রভাবিত করেছে, তবে রংপুর বিভাগে তাপমাত্রা বিশেষভাবে কমে যাওয়ায় শীতের পোশাকের চাহিদা তীব্রভাবে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সাশ্রয়ী মূল্যের গরম কাপড়ের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রংপুরে স্থানীয়ভাবে “ফাটা কোম্পানি” নামে পরিচিত সাময়িক ফুটপাথের দোকানগুলোতে বিক্রি হয় সস্তা শীতের পোশাক, যেগুলো প্রায়শই দ্বিতীয় হাতের বা কারখানার ত্রুটিপূর্ণ পণ্য। এই নামটি স্থানীয় মানুষদের মধ্যে হাস্যরসাত্মকভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে এর পণ্যগুলো দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা সরবরাহ করে।

দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সমজাতীয় সাময়িক দোকানগুলো বিভিন্ন নামে কার্যকর, তবে এই বছর রংপুরে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে তাদের বিক্রয় পরিমাণে বিশেষ উত্থান দেখা গেছে। তাপমাত্রার হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে এই দোকানগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় বাড়ছে।

দৈনিক শ্রমিক, কৃষক, গৃহহীন ও নিম্ন আয়ের পরিবার, পাশাপাশি মধ্যবিত্তের কিছু অংশও এই দোকানগুলোতে গিয়ে সস্তা গরম কাপড় কিনছে। ফলে শীতের মৌসুমে এই গ্রুপগুলোর ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারের চাহিদা তীব্র হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অনুমান করছেন যে রংপুর বিভাগে শীতের পোশাকের মোট লেনদেন এই বছর দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এই প্রত্যাশা মূলত তীব্র শীতের কারণে গ্রাহকদের ক্রয় প্রবণতা বাড়ার ওপর ভিত্তি করে।

এই সাময়িক দোকানগুলো রেলওয়ে স্টেশন, বাস টার্মিনাল, ফুটপাথ ও প্রধান সড়কের পাশে, যেখানে মানুষের চলাচল বেশি, সেখানে স্থাপন করা হয়। ভিড়ভাট্টা এলাকায় সহজে প্রবেশযোগ্য হওয়ায় গ্রাহকদের জন্য সুবিধা বৃদ্ধি পায়।

রংপুর শহরের আলামনগর ও স্টেশন এলাকায় বিশেষভাবে শতাধিক দোকান একত্রিত হয়েছে, যেখানে খুচরা ও পাইকারি উভয় ধরণের শীতের পোশাক বিক্রি হয়। এই দুটি স্থান শীতের মৌসুমে প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও নিলফামারির ব্যবসায়ীরা এই দোকানগুলো থেকে কম দামে পণ্য সংগ্রহ করে নিজেদের অঞ্চলে বিক্রি করে, ফলে একটি আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে উঠেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সস্তা শীতের পোশাক দ্রুত গ্রাহকের হাতে পৌঁছায়।

দাম সম্পর্কে জানানো যায়, টুপি ও মাফলার ২০ থেকে ৮০ টাকা, সোয়েটার, জ্যাকেট ও শাল ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, আর কম্বল ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। একই ধরনের পণ্য গার্মেন্ট শপ বা শপিং মলে পাঁচ থেকে সাত গুণ বেশি দামে পাওয়া যায়।

বিক্রেতারা জানান যে প্রতিটি পণ্যের মার্জিন কম, তবে বিক্রয়ের পরিমাণ বেশি হওয়ায় মোট আয় সন্তোষজনক থাকে। উচ্চ পরিমাণের বিক্রয়ই তাদের জন্য লাভের মূল চালিকাশক্তি।

স্টেশন এলাকার ৬৫ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মনসুর আলী বেপারী উল্লেখ করেন, শীতের চরম তাপমাত্রা এবং সস্তা পণ্যের প্রাপ্যতা কারণে এই বছর বিক্রি রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, গ্রাহকদের ক্রয় আগ্রহ পূর্বের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে সস্তা শীতের পোশাকের চাহিদা উচ্চ স্তরে থাকবে, তবে সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে দাম বাড়ার ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই বিক্রেতাদের জন্য স্টক ব্যবস্থাপনা ও মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments