মিয়া গথ সম্প্রতি পাম স্প্রিংস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য ওডিসি’ নিয়ে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি এই ছবিতে মেলানথো চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা গ্রীক পুরাণের এক গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র। নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ ২০২৬ সালের অন্যতম প্রত্যাশিত চলচ্চিত্র হিসেবে গন্য, এবং ডেকেম্বর ২২ তারিখে প্রকাশিত ট্রেইলারে ইতিমধ্যে ৩৭ মিলিয়ন ভিউ অর্জন করেছে।
এই চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রে মেট ড্যামন অডিসিয়াসের ভূমিকায় রূপ নেন, যা গ্রীক নায়কের দীর্ঘ যাত্রার কাহিনীকে আধুনিক অ্যাকশন ফ্যান্টাসিতে রূপান্তরিত করবে। ট্রেইলার প্রকাশের পর থেকে ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, এবং নোলানের প্রথম সাক্ষাৎকারে তিনি ছবির দৃষ্টিভঙ্গি ও নির্মাণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন। ছবির প্রচার সামগ্রীতে নতুন স্টিল এবং দৃশ্যের টিজারও প্রকাশিত হয়েছে, যা দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
‘দ্য ওডিসি’র কাস্টে আন্তর্জাতিক স্তরের বহু পরিচিত নাম যুক্ত হয়েছে। মেট ড্যামনের পাশাপাশি টম হল্যান্ড, অ্যান হ্যাথাওয়ে, রবার্ট প্যাটিনসন, জেনডায়া, চার্লিজ থেরন, লুপিতা ন্যোংগো, জন বার্নথাল, বেনি সাফডি, জেমস রেমার, ইলিয়ট পেজ, জন লেগুইয়াজামো, হিমেশ পাটেল ইত্যাদি বিশাল তারকা সমাবেশ রয়েছে। এই বিশাল কাস্টের মধ্যে মিয়া গথের উপস্থিতি ছবির নারীর চরিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে।
পাম স্প্রিংস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার অনুষ্ঠানে গথের উপস্থিতি বিশেষ দৃষ্টিনন্দন ছিল। তিনি গুইলেরমো দেল টোরোর সঙ্গে কাজ করা ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন’ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তে উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি ‘দ্য ওডিসি’ সম্পর্কে বিশদ তথ্য প্রকাশ না করেও তার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন।
মিয়া গথের মতে, নোলানের সঙ্গে কাজ করা তার জীবনের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। তিনি উল্লেখ করেন যে নোলানের পরিচালনায় তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং এই অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। গথের কথায় নোলানের অভিনেতাদের প্রতি আস্থা এবং দৃষ্টিভঙ্গি তাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে অভিনয়কে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে।
নোলানের পরিচালন শৈলী সম্পর্কে গথের মন্তব্যে দেখা যায়, তিনি অভিনেতাদের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেন। নোলান যে প্রতিটি দৃশ্যকে সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পনা করেন, তা গথের কাজের পদ্ধতিতে প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, নোলানের সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি নিজের সীমা অতিক্রম করতে পেরেছেন এবং নতুন কিছু শিখেছেন।
অন্যান্য কাস্ট সদস্যদের কথাও প্রকাশ পায় যে, ছবির পরিবেশ অত্যন্ত পেশাদার এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ। জেমস রেমার উল্লেখ করেন, পুরো কাস্টের মধ্যে কোনো অপ্রয়োজনীয় হাস্যরস বা অশান্তি দেখা যায়নি, সবাই তাদের দায়িত্বে মনোযোগী ছিলেন। রেমার বলেন, নোলানের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রতিটি শটের প্রতি তার যত্ন কাস্টকে একত্রে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
‘দ্য ওডিসি’র শুটিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, নোলান প্রতিটি দৃশ্যকে একেকটি শিল্পকর্মের মতো গড়ে তোলেন। তিনি ক্যামেরা, আলো এবং সাউন্ডের সমন্বয়কে নিখুঁতভাবে সাজিয়ে গল্পকে জীবন্ত করে তোলেন। এই পদ্ধতি কাস্টকে তাদের চরিত্রে গভীরভাবে প্রবেশ করতে সহায়তা করে।
চলচ্চিত্রের গল্পের বিশদ প্রকাশ না করলেও, এটি গ্রীক পুরাণের মূল থিম—বীরের দীর্ঘ যাত্রা, ঘরে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা এবং মানবিক সংগ্রাম—কে আধুনিক রূপে উপস্থাপন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মেট ড্যামনের অডিসিয়াসের চরিত্রে শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের সমন্বয় থাকবে, যা দর্শকদের সঙ্গে গভীর সংযোগ গড়ে তুলবে।
‘দ্য ওডিসি’র মুক্তি তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বড় স্ক্রিনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ছবির প্রচারমূলক উপকরণ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং ভক্তদের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা তৈরি করেছে। নোলানের পূর্ববর্তী কাজের সাফল্যকে বিবেচনা করে, এই চলচ্চিত্রের বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মিয়া গথের অভিজ্ঞতা এবং কাস্টের ইতিবাচক মন্তব্যগুলো ‘দ্য ওডিসি’কে শুধু একটি বড় বাজেটের অ্যাকশন ফিল্ম নয়, বরং শিল্পীসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন একটি প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করে। চলচ্চিত্রের প্রতি এই ইতিবাচক মনোভাব দর্শকদেরকে আগামি মুক্তির জন্য আরও উত্তেজিত করে তুলবে।
সিনেমা প্রেমিকদের জন্য ‘দ্য ওডিসি’ একটি অপেক্ষারত দৃষ্টিনন্দন অভিজ্ঞতা হতে চলেছে, যেখানে নোলানের দৃষ্টিকোণ এবং বিশাল কাস্টের পারফরম্যান্স একত্রে মিলে একটি স্মরণীয় চলচ্চিত্র তৈরি করবে। এই ছবির সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে, তা দ্রুত শেয়ার করা হবে।



