বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (BTRC) ৭০০ MHz ব্যান্ডের নিলামের জন্য নতুন নিয়ম জারি করেছে। নতুন নির্দেশিকায় একক অপারেটর সর্বোচ্চ ১০ MHz স্পেকট্রামই অর্জন করতে পারবে, যা পূর্বে অনুমোদিত ১৫ MHz সীমা থেকে কম। এই পরিবর্তনটি জানুয়ারি ১৪ তারিখে নির্ধারিত নিলামকে প্রভাবিত করবে।
পূর্বে কমিশন নিলাম নির্দেশিকায় স্পেকট্রাম অর্জনের স্পষ্ট সীমা নির্ধারণ করেনি, ফলে দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ MHz অনুমোদনের জন্য নির্দেশিকা সংশোধন করা হয়। তবে একাধিক অপারেটরের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পর সীমা হ্রাস করা হয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান এমদাদ উল বরি উল্লেখ করেন, একক দরদাতার ক্ষেত্রে বড় পরিমাণ স্পেকট্রাম এক হাতে জমা হলে প্রতিযোগিতা নষ্ট হতে পারে। তাই ছোট অপারেটরদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য এই সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে।
নিলামের জন্য দেশের শীর্ষ তিনটি মোবাইল অপারেটর – গ্রামীণফোন, রোবি এবং বাংলালিংক – থেকে ইতিমধ্যে আবেদন পাওয়া গেছে। গ্রামীণফোন এবং রোবি উভয়ই জানুয়ারি ১৪ তারিখের নিলামে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, তবে রোবি এক মাসের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছে। বাংলালিংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক এখনো আবেদন জমা দেয়নি।
রোবি অক্ষিাটার কর্পোরেট ও রেগুলেটরি বিষয়ক প্রধান শাহেদ আলম বলেন, স্পেকট্রাম সীমা কমিয়ে নিলামকে আরও ন্যায়সঙ্গত করা সম্ভব হবে এবং কোনো একক অপারেটর স্পেকট্রাম দখল করতে পারবে না। এই মন্তব্যটি বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
নিলামের আরেকটি চ্যালেঞ্জ হল ৭০০ MHz ব্যান্ডের ২০ MHz অংশ দীর্ঘমেয়াদী আইনি বিরোধে জড়িয়ে আছে। ২০০৭ সালে BTRC এই ব্যান্ডের ১২ MHz আলওয়েজ অন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ লিমিটেডকে ব্রডব্যান্ড সেবা প্রদানকারীর জন্য বরাদ্দ করেছিল, যদিও সেই ফ্রিকোয়েন্সি পরে মোবাইল সেবার জন্য অনুমোদিত হয়। ফলে এই অংশটি এখনো নিলামের জন্য মুক্ত নয়।
সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ৭০০ MHz ব্যান্ডের ভিত্তি মূল্য ১০ শতাংশ কমিয়ে টাকার ২৩৭ কোটি প্রতি MHz নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্বের ২৬৩ কোটি প্রতি MHz থেকে হ্রাস পেয়েছে। এই মূল্য ১৫ বছরের লাইসেন্সের জন্য প্রযোজ্য। তবে মোবাইল অপারেটররা এখনও এই দামের তুলনা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে করে দেখছে যে, দেশীয় স্পেকট্রাম এখনও বেশি ব্যয়বহুল।
নিলামের সময়সূচি, সীমা এবং মূল্যের পরিবর্তনগুলো দেশের টেলিকম সেক্টরের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। স্পেকট্রাম হ্রাসের মাধ্যমে ছোট অপারেটরদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়বে, পাশাপাশি প্রতিযোগিতা তীব্র হবে, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য সেবা মান ও দামের উন্নতি আনতে পারে।
এই নিলাম ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যেখানে ৭০০ MHz ব্যান্ডকে ৪জি ও ৫জি সেবার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। স্পেকট্রাম বিতরণে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা এবং আইনি বাধা দূর করা হলে, ভবিষ্যতে উচ্চগতির ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবার বিস্তৃতি ত্বরান্বিত হবে।



