যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় জানা গেছে, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নিকোলাস মাদুরোর কম্পাউন্ডে গত শনিবার পরিচালিত সামরিক অভিযানে মোট ৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এতে ২৩ জন ভেনেজুয়েলা সেনা, ৩২ জন কিউবান যোদ্ধা এবং দুইজন নারী বেসামরিক নাগরিক অন্তর্ভুক্ত।
অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫২টি বিমান অংশগ্রহণ করেছে এবং কোনো আমেরিকান কর্মী আহত হয়নি বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেন। তিনি এই অপারেশনকে “দুর্দান্ত” বলে বর্ণনা করে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি সর্বোচ্চ আধুনিক এবং সর্বশক্তিমান বলে পুনর্ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্পের মতে, মাদুরোর নিরাপত্তা রক্ষায় কিউবান গার্ডদের উপস্থিতি ছিল এবং তারা প্রতিরোধ গড়ে তুললে আঘাতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি যুক্তি দেন, মাদুরোকে আটক করার সময় কিউবান গার্ডদের প্রতিরোধের ফলে এই ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে।
ভেনেজুয়েলার স্থানীয় মিডিয়া জানায়, অভিযানের সময় মাদুরোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর বেশিরভাগই কিউবান ছিলেন, যারা তার রক্ষায় লড়াই করছিলেন। ফলে কিউবাদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হয়েছে।
কিউবায় দীর্ঘদিনের ভেনেজুয়েলা মিত্র হিসেবে পরিচিত কিউবান কমিউনিস্ট পার্টির সরকারি পত্রিকা “গ্রানমা” এই ঘটনার বিশ্লেষণ করে “অনার অ্যান্ড গ্লোরি” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিউবান সৈন্যরা তীব্র প্রতিরোধের পর শত্রুর গুলিতে গুলি হয়ে মারা গেছেন।
মাদুরো তার নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরামর্শের জন্য কিউবান দেহরক্ষী ও উপদেষ্টাদের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। কিউবাদের ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পটভূমিতে এই তথ্যটি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলা সেনা ও কিউবান গার্ডদের পাশাপাশি দুইজন নারী বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুও ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক কর্মী আহত হয়নি, তবু এই মানবিক ক্ষতি অঞ্চলীয় উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত আধুনিকতার ওপর জোর দিয়ে, ভবিষ্যতে এমন অপারেশন পুনরায় চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে অপরিহার্য।
ভেনেজুয়েলা সরকার এখন পর্যন্ত এই ঘটনার ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রদান করেনি, তবে স্থানীয় সংবাদ সূত্র থেকে জানা যায়, মাদুরোর সমর্থকরা এই আক্রমণকে দেশীয় স্বায়ত্তশাসনের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখছেন।
কিউবান সরকারও ঘটনাটিকে কিউবাদের শহীদত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছে এবং মাদুরোর প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। কিউবায় এই ঘটনার পর কিউবান-ভেনেজুয়েলা সামরিক সহযোগিতা কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই ধরনের উচ্চ-প্রোফাইল সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
পরবর্তী ধাপে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার মাদুরোর উপর আরেকটি চাপের ব্যবস্থা নিতে পারে, অথবা কূটনৈতিক চ্যানেল দিয়ে সমাধানের পথ অনুসন্ধান করতে পারে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলা ও কিউবার নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সমালোচনার মুখে দাঁড়াতে হবে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, মানবিক অধিকার এবং আঞ্চলিক জ্যোতির্বিদ্যায় নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।



