ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো আজ ঘোষণা করেছেন যে তিনি শীঘ্রই দেশে ফিরে আসবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে কাজ করা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করছেন।
মাচাদো, যিনি দীর্ঘদিন দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুখ্য কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছেন, তার প্রত্যাবর্তনকে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অজানা স্থানে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ চ্যানেলের সঙ্গে কথোপকথনে মাচাদো জানান, তার নেতৃত্বাধীন বিরোধী আন্দোলন একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনে জয়লাভের জন্য প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বললেন যে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যদি কোনো জালিয়াতি না হতো, তবে তাদের ভোটের হার নব্বই শতাংশের বেশি হতে পারত।
মাচাদো আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশে প্রতারণার মুখে তাদের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, তবে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তাদের জনপ্রিয়তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে।
মাচাদোর মন্তব্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা অন্তর্ভুক্ত, যাকে তিনি নিকোলাস মাদুরোর শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে সহায়তা করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে উল্লেখ করেন। তিনি ট্রাম্পের নীতি ও সমর্থনকে ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের একটি মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।
তবে একই সঙ্গে মাচাদো রদ্রিগেজের বর্তমান ভূমিকাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন, তাকে নির্যাতন, নিপীড়ন, দুর্নীতি ও মাদক পাচারের অন্যতম দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডকে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি খারাপ করার প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেন।
মার্কিন মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিকোলাস মাদুরোর গ্রেফতারের পর ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েনের ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল শিল্পের ওপর সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরোপিত হয়েছে, এবং জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে।
রাজধানী কারাকাসে সাংবাদিকদের আটক, প্রেসিডেনশিয়াল প্রাসাদের নিকটে গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র তুলে ধরেছে। এই ঘটনাগুলি দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের তীব্রতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলেছে।
মাচাদোর প্রত্যাবর্তন ও রদ্রিগেজের প্রতি তার কঠোর অবস্থান দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তার উপস্থিতি বিরোধী গোষ্ঠীর সংগঠনের শক্তি বাড়াতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও সমর্থন কীভাবে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ গতি-প্রকৃতিকে প্রভাবিত করবে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরদারির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশীয় ও বৈদেশিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক ক্রিয়া ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধানের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকায়, মাচাদোর প্রত্যাবর্তন ও রদ্রিগেজের প্রতি তার কঠোর বিরোধের ফলে দেশের শাসন কাঠামো ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নতুন চ্যালেঞ্জ উত্থাপিত হবে। এই পরিবর্তনগুলো দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য কী ফলাফল বয়ে আনবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



