চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী ড. এহছানুল হক মিলন একটি টেলিভিশন টকশোতে ভোটের আগে ঘটিত অপ্রত্যাশিত মিছিলের বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, সকাল ৯টায় তার এলাকায় জামায়াতের প্রার্থীর মিছিল দেখা যায়, যা তাকে বিস্মিত করে।
মিলন বলেন, মিছিলের সময় তিনি ভাবলেন, কীভাবে এত তাড়াতাড়ি মিছিল হতে পারে এবং তার সন্তানরা কি এতে অংশ নিচ্ছে কিনা। কাছাকাছি গিয়ে তিনি দেখতে পান, মিছিলটি জামায়াতের প্রার্থীদের নেতৃত্বে চলছে। তিনি এ মুহূর্তে ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তার সব পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টা যেন এক মুহূর্তে বদলে গেছে।
প্রার্থী উল্লেখ করেন, পূর্বে তিনি যে সব লোককে নিজের দলের সদস্য ও সমর্থক হিসেবে গণ্য করতেন, তারা এখন জামায়াতের রুকন (সহযোগী) হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, কচুয়া এলাকায় তিনি বহু বছর ধরে জনসেবার কাজ করে এসেছেন এবং বহু লোকের উপকার করেছেন, কিন্তু এখন তার কিছু সমর্থক অন্য দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
মিলন স্বীকার করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়াও জামায়াতের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতের প্রার্থীও এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে এবং তার নিজের এলাকার রাজনৈতিক গতিবিধি এতে প্রভাবিত হয়েছে।
প্রার্থী জোর দিয়ে বলেন, তিনি আগে কখনো এমন রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখেননি, যেখানে নিজের সহায়তাপ্রাপ্ত মানুষ হঠাৎ করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে যুক্ত হয়। তিনি এ ধরনের পরিবর্তনকে অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে কিনা তা জানেন না।
টকশোতে উপস্থিত অন্যান্য বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জামায়াতের মিছিলের উপস্থিতি কচুয়া অঞ্চলে ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যেসব গ্রাম ও পাড়া ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি সমর্থক। তারা বলেন, এই ধরনের অপ্রত্যাশিত মিছিল নির্বাচনী প্রচারণার নতুন রূপ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
জামায়াতের প্রতিনিধিরা যদিও সরাসরি মন্তব্য করেননি, তবে তারা সাধারণত নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার রক্ষা করে এবং আইনগতভাবে তাদের প্রার্থীকে সমর্থন করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, মিছিলের মাধ্যমে তারা তাদের উপস্থিতি ও সংগঠনকে দৃশ্যমান করতে চায়।
বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, যদি জামায়াতের সমর্থকরা ভোটে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়, তবে এটি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ভোটের ভাগে পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষত কচুয়া মত সীমিত জনসংখ্যার এলাকায় ছোট পার্থক্যই ফলাফলকে নির্ধারণ করতে পারে।
বিএনপি দলের অভ্যন্তরে এই মন্তব্যের পর্যালোচনা চলছে। কিছু নেতা মিলনের উদ্বেগকে স্বীকার করে, স্থানীয় সমর্থকদের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক বলেন, এই ধরনের প্রকাশনা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রচারণার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।
আওয়ামী লীগও এই ঘটনার প্রতি নজর দিয়েছে। তাদের স্থানীয় সংগঠনগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটের আগে কোনো অনধিকারিক সমাবেশ বা মিছিল না করার জন্য সতর্কতা বজায় রাখতে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা তাদের অগ্রাধিকার।
নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, সকল প্রধান দলই তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। কচুয়া এলাকায় ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য দরজা-দরজা ক্যাম্পেইন, রেলিং ও সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রচারণার মধ্যে মিলনের মন্তব্যও একটি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, কচুয়া অঞ্চলে রাজনৈতিক পরিবেশ এখনো পরিবর্তনের পর্যায়ে রয়েছে। জামায়াতের মিছিলের উপস্থিতি এবং মিলনের প্রকাশ্য মন্তব্য উভয়ই নির্বাচনী গতিবিধিকে প্রভাবিত করতে পারে। পরবর্তী সপ্তাহে ভোটের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।



