বহুল জনপ্রিয়তা ও সমালোচনামূলক স্বীকৃতি অর্জনকারী তাপসী পন্নু, গন্ধারি নামের নতুন অ্যাকশন-থ্রিলার ছবির দ্বিতীয় শুটিং শিবিরে প্রবেশ করেছেন। প্রথম শুটিং শিবির ডিসেম্বর মাসে সম্পন্ন হওয়ার পর, এই সপ্তাহে তিনি পুনরায় ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হয়েছেন। ছবিটি এক মায়ের হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে উদ্ধার করার তীব্র সংগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যা তাপসীর শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য বিশেষভাবে অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তাপসী পন্নু তার ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ধাঁচের চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। “পিঙ্ক” (২০১৬), “নাম শাবানা” (২০১৭) এবং “থাপ্পা” (২০২০) মতো চলচ্চিত্রে তিনি জটিল ও শক্তিশালী নারীর ভূমিকায় দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। এই চলচ্চিত্রগুলোতে তার পারফরম্যান্স তাকে নারী-নায়িকাভূমিক চলচ্চিত্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
গন্ধারি তার জন্য অ্যাকশন জঁরেতে ফিরে আসার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পূর্বে তিনি হালকা-ফুলকা রোমান্স ও ড্রামা জঁরে বেশ কিছু সফল কাজ করেছেন, তবে এই প্রকল্পে তিনি শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং দৃশ্য ও তীব্র স্টান্টের মাধ্যমে নিজের সীমা প্রসারিত করছেন। চলচ্চিত্রের গল্পের গভীরতা ও আবেগময়তা তাপসীর অভিনয়কে আরও প্রভাবশালী করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য তাপসী বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন। তিনি এয়ারিয়াল ইয়োগা, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম এবং স্টান্ট কোর্সে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন, যাতে ক্যামেরার সামনে তার গতি ও শারীরিক দক্ষতা নিখুঁত হয়। এই ধরনের প্রশিক্ষণ তাকে উচ্চ-উচ্চতা থেকে লাফিয়ে পড়া, দ্রুত গতি পরিবর্তন এবং শারীরিকভাবে কঠিন দৃশ্যগুলোতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে সহায়তা করবে।
দ্বিতীয় শুটিং শিবিরটি মূলত শহরের বাইরে অবস্থিত এক গোপন স্থানে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে তাপসী ও তার সহকর্মীরা দৃশ্যের বাস্তবতা বজায় রাখতে কঠোর শৃঙ্খলা মেনে চলছেন। শুটিংয়ের সময় ক্যামেরা টিম ও স্টান্ট কো-অর্ডিনেটরদের সমন্বয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যাতে প্রতিটি অ্যাকশন সিকুয়েন্স নিরাপদে এবং নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয়।
গন্ধারি তাপসী পন্নু ও লেখক-প্রযোজক কানিকা ধিলনের দ্বিতীয় যৌথ প্রকল্প। প্রথমবারের মতো তারা একসাথে কাজ করেছিল “কানিকা ধিলন” পরিচালিত অন্য একটি চলচ্চিত্রে, যা দর্শকদের কাছ থেকে ভাল সাড়া পেয়েছিল। এইবারের সহযোগিতা দুজনের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও গল্প বলার ক্ষমতাকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী ও আবেগময় বর্ণনা তৈরি করেছে।
চলচ্চিত্রটির মুক্তির তারিখ এখনও চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি, তবে প্রযোজকরা বছরের শেষের দিকে স্ক্রিনে দেখার পরিকল্পনা করছেন। পোস্ট-প্রোডাকশন কাজের অগ্রগতি ও সঙ্গীতের সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তির ঘোষণা দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফ্যানদের মধ্যে গন্ধারির জন্য উত্তেজনা বাড়ছে। তাপসীর শক্তিশালী শারীরিক প্রস্তুতি, মায়ের রক্ষার তীব্র কাহিনী এবং অ্যাকশন জঁরের প্রত্যাশিত দৃশ্যগুলোকে নিয়ে দর্শকরা বড় পর্দায় নতুন রূপে তাপসীকে দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এই চলচ্চিত্রটি তার ক্যারিয়ারের আরেকটি মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে, যা তাপসীর বহুমুখী প্রতিভাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে।



