ওয়াশিংটন‑এর ট্রাম্প‑কেনেডি সেন্টারে রিপাবলিকান আইনসভার সদস্যদের সামনে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোকে তার নৃত্যের অনুকরণ করার অভিযোগ করেন। একই সময়ে তিনি ভেনেজুয়েলা নেতা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে, তার শাসনকালে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পটভূমি হল নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে মাদুরো নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে টেকনো রিমিক্সে “নো ওয়ার, ইয়েস পিস” স্লোগান গেয়ে নাচেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়। ট্রাম্পের মতে, মাদুরোর এই প্রকাশ্য নাচ তার নিজের র্যালি পারফরম্যান্সের নকলের মতো।
বক্তৃতার সময় ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে মাদুরো “আমার নাচের কিছুটা অনুকরণ করার চেষ্টা করে” এবং তাছাড়া তাকে “হিংস্র ব্যক্তি” বলে বর্ণনা করেন, যিনি বহু মানুষকে হত্যা করেছেন। তিনি ক্যারাকাসে একটি নির্যাতন কক্ষের অস্তিত্বের কথাও উল্লেখ করেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো বিশদ তথ্য দেননি।
মাদুরোর নাচের দৃশ্যটি ২০২৫ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সামরিক গঠন বাড়ার সময়ে ঘন ঘন দেখা গিয়েছিল। ট্রাম্প নিজেও র্যালি অনুষ্ঠানে ডিস্কো গানের “Y.M.C.A.”-তে নাচার জন্য পরিচিত। তবে মাদুরোর নাচের সঙ্গে তার তুলনা করা হলে, ট্রাম্পের মন্তব্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বিশেষ করে আসন্ন ২০২৬ সালের মধ্যমেয়াদী নির্বাচনের পূর্বে তার নীতি অগ্রাধিকারের তালিকায়।
ট্রাম্পের বক্তৃতায় তিনি নারীদের ক্রীড়া থেকে ট্রান্সজেন্ডার মহিলাদের বাদ দেওয়ার নীতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং নিজে একটি অতিরঞ্জিত নকল উপস্থাপন করেন, যা তিনি ট্রান্স ওজন উত্তোলনকারী হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী এ ধরনের কাজ পছন্দ করেন না, তিনি বলেন এটা রাষ্ট্রপতির মর্যাদার বিরুদ্ধে।” এছাড়াও তিনি ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের নাচের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, “কল্পনা করতে পারেন কি, রুজভেল্ট নাচছেন?” রুজভেল্ট ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং তার শারীরিক অক্ষমতা সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর ভেনেজুয়েলা শাসনের ওপর আক্রমণও যুক্ত হয়েছে, যেখানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে শনি দিন গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ট্রাম্পের বক্তৃতায় ভেনেজুয়েলা তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা বা নির্যাতন কক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বক্তৃতার শেষ অংশে ট্রাম্প ২০২৬ সালের নির্বাচনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যেখানে তিনি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের জন্য তার নীতি অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের লক্ষ্য হল দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা, এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।”
মাদুরোর নাচের সঙ্গে তুলনা, নির্যাতনের অভিযোগ এবং ট্রান্সক্রীড়া নীতির সমালোচনা একত্রে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলকে প্রতিফলিত করে, যা ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ এবং তার প্রশাসনের শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা নীতি, তেলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং মানবাধিকার বিষয়ক আলোচনার দিকনির্দেশনা এই ঘটনাগুলোর ওপর নির্ভরশীল হবে।



