মারিও গেটজে, ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত গোলের নায়ক, এখন ফুটবলের পাশাপাশি অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর হিসেবে সক্রিয়। তার ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ফান্ড ‘কম্প্যানিয়ন এম’ বর্তমানে ৭০টির বেশি স্টার্টআপে পুঁজি প্রদান করেছে। গেটজের এই দ্বৈত ক্যারিয়ার তার খেলাধুলার সাফল্যকে আর্থিক জগতে নতুন দিক দেখাচ্ছে।
কম্প্যানিয়ন এম-এর পোর্টফোলিওতে ২০২৫ সালে দুটো ইউনিকর্ন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে: ড্যানিশ ফিনটেক কোম্পানি ফ্ল্যাটপে এবং জার্মান এআই স্টার্টআপ পার্লোয়া। এই দুই প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব সেক্টরে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে গ্লোবাল বাজারে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। গেটজের বিনিয়োগ কৌশল এই সফলতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
গেটজের বিনিয়োগ মূলত প্রি-সিড এবং সিড রাউন্ডে কেন্দ্রীভূত, যেখানে একক বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ ইউরো (প্রায় ২৯,০০০ থেকে ৫৮,০০০ ডলার) পর্যন্ত থাকে। এই পর্যায়ে স্টার্টআপগুলো সাধারণত প্রাথমিক পণ্য বা সেবা বিকাশের প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করে। গেটজের ফান্ড এই সীমার মধ্যে বিনিয়োগ করে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উচ্চ সম্ভাবনাময় প্রকল্পে সমর্থন দেয়।
কম্প্যানিয়ন এম নির্দিষ্ট সেক্টরে ফোকাস করে, যেখানে গেটজের নেটওয়ার্ক এবং বিশেষজ্ঞতা বেশি। তার দল B2B SaaS, সফটওয়্যার ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সাইবারসিকিউরিটি, স্বাস্থ্য ও বায়োটেকনোলজি ক্ষেত্রে গভীর জ্ঞান রাখে। যদিও গেটজ একজন পেশাদার ফুটবলার, তার বিনিয়োগের মূল ক্ষেত্রগুলো সরাসরি স্পোর্টস টেক নয়, বরং মানব পারফরম্যান্স এবং সুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
স্বাস্থ্য ও বায়োটেকনোলজি সেক্টর গেটজের জন্য স্বাভাবিক পছন্দ, কারণ একজন খেলোয়াড়ের দেহের পারফরম্যান্স সর্বোচ্চ স্তরে রাখতে এই ক্ষেত্রের উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এমন স্টার্টআপে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, যেগুলো শারীরিক ক্ষমতা বাড়ানো, পুনরুদ্ধার সময় কমানো বা পুষ্টি উন্নত করার প্রযুক্তি বিকাশ করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তার বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে বেশ কিছু মেডিকেল ডিভাইস ও ডেটা অ্যানালিটিক্স কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত।
২০২০ সালে গেটজ জার্মান ক্যানাবিস স্টার্টআপ স্যানিটি গ্রুপে বিনিয়োগ করেন, যখন অধিকাংশ ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান ক্যানাবিসকে ঝুঁকিপূর্ণ সেক্টর হিসেবে দেখত। স্যানিটি গ্রুপের লক্ষ্য জার্মান মেডিকেল ক্যানাবিস বাজারে প্রবেশ করা, এবং ২০২৪ সালে তারা দেশের ১০% শেয়ার অর্জন করেছে বলে জানানো হয়েছে। গেটজের এই পদক্ষেপ জার্মানির ক্যানাবিস নীতিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা শিল্পকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাচ্ছে।
ক্যানাবিস এখনও প্রতিযোগিতামূলক খেলায় নিষিদ্ধ, তাই গেটজের জন্য নিজে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তবে তিনি এই শিল্পের বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং রোগীর চিকিৎসা সুবিধা নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তার বিনিয়োগ কেবল আর্থিক রিটার্ন নয়, বরং সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত প্রভাবের দিকেও গুরুত্ব দেয়।
গেটজ বর্তমানে ৩৩ বছর বয়সী এবং জার্মান ক্লাব আইএনট্রাখ্ট ফ্রাঙ্কফুর্টের হয়ে শীর্ষ লিগে খেলছেন। পেশাদার ফুটবলে তার ক্যারিয়ার এখনও সক্রিয়, তাই অবসর গ্রহণের আগে তিনি বিনিয়োগের মাধ্যমে আর্থিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চান। সক্রিয় খেলোয়াড় হিসেবে তার এই দ্বৈত ভূমিকা জার্মান এবং ইউরোপীয় ক্রীড়া জগতে নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছে।
গেটজের বিনিয়োগের পদ্ধতি আমেরিকান খেলোয়াড়-ইনভেস্টরদের কাছ থেকে প্রেরণা নেয়, বিশেষ করে এনবিএ চ্যাম্পিয়ন কেনি ডুরান্টের মতো ব্যক্তিত্বের উদাহরণ উল্লেখযোগ্য। ডুরান্টের মতোই গেটজও খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার আগে ব্যবসায়িক সুযোগগুলো কাজে লাগাতে চান। এই প্রবণতা দেখায় যে আধুনিক ক্রীড়াবিদরা আর্থিক স্বাধীনতা এবং সামাজিক প্রভাবের জন্য খেলাধুলার বাইরে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।
গেটজের মতো সক্রিয় খেলোয়াড়দের বিনিয়োগের উদাহরণ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়। তাদের নেটওয়ার্ক, ব্র্যান্ড মূল্য এবং শিল্পের প্রতি আগ্রহ নতুন স্টার্টআপের জন্য শক্তিশালী সমর্থন হয়ে উঠবে। এভাবে ক্রীড়া ও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও উদ্ভাবনের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে।



