ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের সামনে মঙ্গলবার বিকেলে শ্রমিক দল ও যুবদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত পনেরোজন আহত হয়। উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর আক্রমণাত্মকভাবে পাল্টা অভিযোগ করে, ফলে ঘটনাস্থলে বিশাল হিংসা ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত তজুমদ্দিন উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ইকবাল হোসেন লিটনের সঙ্গে যুবদল কর্মী গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার ও মিজানের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে কথোপকথনের সময় হয়। লিটন পাওনা দাবি করার পর যুবদল কর্মীরা তাকে তীব্রভাবে বিরোধিতা করে, যার ফলে কথাবার্তা থেকে শারীরিক মারামারিতে রূপ নেয়।
ঘটনাস্থলে দুই গোষ্ঠীর সমর্থকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা একে অপরের ওপর আক্রমণ চালায়। শেষ পর্যন্ত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়, যার মধ্যে চারজনকে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের নাম হল ডা. নোমান, আব্দুল গফুর, মিরাজ ও রুবেল। আল-আমিনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে তৎক্ষণাত ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ইকবাল হোসেন লিটন দাবি করেন যে ২০১৭ সালে তার দোকানকে তখনকার আওয়ামী লীগ সমর্থকদের দ্বারা ধ্বংস ও লুট করা হয় এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়। পরের বছর তিনি স্লুইসঘাটে সাবেক শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সবুজ তালুকদারের সঙ্গে একটি দোকান খুলে ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৯ সালে বিস্ফোরক আইনে দায়ের মামলায় আদালতে হাজির হওয়ার সময় তিনি দোকানের চাবি সবুজ তালুকদারের কাছে রেখে যান, তবে জেল থেকে ফিরে দেখেন সবুজ ও তার ভাই রিয়াজ দোকানের মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।
লিটন জানান, ৫ই আগস্টের পর থেকে তিনি পাওনা আদায়ের চেষ্টা করলে যুবদল কর্মী গিয়াস ও মিজান বাধা সৃষ্টি করে। গতকাল (৬ জানুয়ারি) যখন তিনি সবুজ তালুকদারকে ধরতে হাসপাতালের সামনে গিয়েছিলেন, তখন গিয়াস ও মিজানের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
যুবদল কর্মী গিয়াসউদ্দিন হাওলাদার বলেন, লিটন দক্ষিণ বাজারের ব্যবসায়ীদেরকে গালি ও মারধর করে, ফলে বাজারের লোকজন তাকে প্রতিহত করতে গিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনার ফলে রুবেল, ইলিয়াছ এবং আবু সাইদসহ তাদের গোষ্ঠীর বেশ কয়েকজন আহত হয়।
তজুমদ্দিন থানা পরিদর্শক (তদন্ত) সুশান্ত মালো জানান, লিটন ও জামাল নেতৃত্বাধীন দুই গোষ্ঠী ক্ষমতা অর্জনের জন্য একে অপরের সঙ্গে হিংসাত্মক মোকাবিলা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে।
পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, স্থানীয় পুলিশ এখন ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, গোষ্ঠীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তদন্ত চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো শান্তি চুক্তি বা সমঝোতা চেষ্টার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা উভয় গোষ্ঠীর ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এধরনের হিংসা রোধ করা যায়।



