বেলা তিনটার কাছাকাছি শিশুটি মোস্তফা নামের ছেলেকে সার্জারির জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। অপারেশন শেষের পর সন্ধ্যা ছয়টায় হাসপাতালের কর্মীরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করার কথা জানায় এবং দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়।
অ্যাম্বুলেন্সে শিশুর শারীরিক অবস্থা তীব্রভাবে পরিবর্তিত দেখা যায়; তার দেহ শীতল, পা বাঁকা এবং কোনো নড়াচড়া না থাকায় বাবা আবু মুসা পরিস্থিতির গুরুতরতা বুঝতে পারেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার পর রাত দশটায় চিকিৎসকরা জানায় যে শিশুটি মারা গেছে। মৃত্যুসনদে হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ হওয়াকে (হার্ট অ্যাটাক) মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু মুসা দাবি করেন যে অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারের ভুলই তার ছেলের মৃত্যুর মূল কারণ। তিনি জানান যে শিশুটিকে প্রথমে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাটের কাছাকাছি থাকা সেইফ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং সেখানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চালানো হচ্ছিল। রোগীর পূর্বে গৃহীত চিকিৎসা নথিতে উল্লেখ আছে যে মোস্তফার প্রস্রাবের পথে জন্মগত ত্রুটি, গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস, রয়েছে এবং তার জন্য খতনা ও ছোট আকারের একটি সার্জারি পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যার সঙ্গে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারের কথাও উল্লেখ আছে।
চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মতে, সাধারণত খতনা করার সময় স্পাইনাল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয় এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঘটনা খুবই কম। তবে এই শিশুর ক্ষেত্রে কী ঘটেছে, তা বিস্তারিত জানার জন্য আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
মোস্তফার পরিবার চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডি গ্রামে বসবাস করে। বাবা আবু মুসা স্থানীয় একটি ডিশ কেব্ল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। মোস্তফা পরিবারের বড় সন্তান এবং তার দুই বছর বয়সী একটি ছোট ভাই আছে।
গত বছর ১৬ ডিসেম্বর একই শিশুকে একই চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল, তখনও তার গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াসের জন্য খতনা ও ছোট সার্জারির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেই সময়ের নথিতে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারের উল্লেখ ছিল, যা বর্তমান ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
শিশুর অকাল মৃত্যুর পর পরিবার শোকাহত এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারের যথার্থতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও চিকিৎসকরা এখনও কোনো মন্তব্য দেননি, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রোটোকল পর্যালোচনা ও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন হতে পারে।
এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য সেক্টরে অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারের মানদণ্ড এবং শিশু সার্জারির নিরাপত্তা সম্পর্কে আলোচনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, শিশু রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগের প্রকৃতি এবং অ্যানেসথেসিয়ার ধরন সবই সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা উচিত।
পরিবারের দাবি এবং হাসপাতালের ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও, শেষ পর্যন্ত শিশুর মৃত্যু একটি দুঃখজনক বাস্তবতা, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
শিশুর পরিবারকে সমর্থন ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা জরুরি, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত করে ফলাফল প্রকাশ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।



