লায়ন্সগেটের নতুন প্রকল্পে ‘দ্য হাউসমেড’ সিরিজের দ্বিতীয় অংশের প্রস্তুতি চলছে। জনপ্রিয় সিরিজের সিক্যুয়েলটি ফ্রেইডা ম্যাকফ্যাডেনের ত্রয়ীর দ্বিতীয় উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে এবং শিরোনাম রাখা হয়েছে “দ্য হাউসমেড’স সিক্রেট”। এই ছবিতে সিডনি সুইনি প্রধান চরিত্রে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তিনি এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবেও যুক্ত আছেন।
সিক্যুয়েলের পরিচালনা দায়িত্ব পল ফিগকে দেওয়া হয়েছে, যিনি পূর্বে ছবির প্রথম অংশে সফলভাবে কাজ করেছেন। যদিও সুইনি এখনও অভিনয়ের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেননি, লায়ন্সগেটের পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি মিলি চরিত্রে পুনরায় উপস্থিত হবেন। এই সিদ্ধান্তটি দর্শকদের প্রত্যাশা এবং সিরিজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সামান্য পরিবর্তন সত্ত্বেও, অ্যামান্ডা সেয়ারফিডেরাও সিক্যুয়েলে এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তার চরিত্রটি মূল উপন্যাসে উপস্থিত না হলেও, সেয়ারফিডের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এখনও উন্মুক্ত রয়েছে। এই বিষয়টি হলিউড রিপোর্টারের তথ্য অনুযায়ী নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রথম ছবির বক্স অফিস পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য ছিল; দেশীয় বাজারে ৭৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী মোট ১৩৩ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। ছবিটি জানুয়ারি মাস পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে, যা সিক্যুয়েলের জন্য শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি তৈরি করেছে।
সিক্যুয়েলের স্ক্রিনরাইটিং কাজ রেবেকা সোনেনশাইন পুনরায় গ্রহণ করেছেন, যিনি মূল ছবির স্ক্রিপ্টও রচনা করেছিলেন। তিনি টড লিবারম্যান, পল ফিগ, লরা ফিশার, কার্লি এল্টার এবং অ্যালেক্স ইয়ংসহ প্রযোজক দলের সঙ্গে কাজ করবেন। ম্যাকফ্যাডেন নিজেও এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে প্রকল্পে অংশ নেবেন।
লায়ন্সগেটের মোশন পিকচার গ্রুপের চেয়ার অ্যাডাম ফোগেলসন একটি বিবৃতি দিয়ে প্রকাশ করেছেন যে, গ্লোবাল বক্স অফিসের সাফল্য এবং সামাজিক মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া ছবির অনন্য থিয়েট্রিক্যাল অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দর্শকরা গল্পের ধারাবাহিকতা জানতে আগ্রহী এবং এই চাহিদা সিক্যুয়েলকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সিক্যুয়েলের উৎপাদন সংস্থা হিডেন পিকচারস ও প্রিটি ড্যাঞ্জারাস পিকচারস। উভয় সংস্থা প্রথম ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যের পর এই প্রকল্পে একসাথে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য হল প্রথম ছবির সৃষ্টিশীল দিক বজায় রেখে নতুন উপাদান যোগ করা।
সিডনি সুইনি, যিনি ‘ইউফোরিয়া’ সিরিজে তার পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত, এই প্রকল্পে এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে তার প্রোডাকশন দক্ষতা ব্যবহার করবেন। তিনি পূর্বে বিভিন্ন হরর ও থ্রিলার ছবিতে কাজ করেছেন, যা এই সিক্যুয়েলের ভয়াবহ পরিবেশে উপযুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সিক্যুয়েলটি প্রথম ছবির তুলনায় আরও গভীর চরিত্র বিশ্লেষণ এবং নতুন প্লট লাইন যোগ করবে। ফ্রেইডা ম্যাকফ্যাডেনের দ্বিতীয় উপন্যাসে বর্ণিত নতুন রহস্য ও টুইস্টগুলোকে স্ক্রিনে রূপান্তরিত করা হবে, যা দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে।
সিক্যুয়েলের শুটিং শিডিউল এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে লায়ন্সগেটের সূত্র অনুযায়ী শীঘ্রই ক্যাস্টিং এবং লোকেশন সিলেকশন সম্পন্ন হবে। ছবির পোস্ট-প্রোডাকশন কাজের জন্য আধুনিক ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস টিমকে নিয়োগ করা হয়েছে, যা প্রথম ছবির ভিজ্যুয়াল স্টাইলকে আরও উন্নত করবে।
সিক্যুয়েলটি আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তির জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে প্রথম ছবির মতোই বিস্তৃত রিলিজ স্ট্র্যাটেজি অনুসরণ করা হবে। লায়ন্সগেটের মার্কেটিং টিম ইতিমধ্যে সামাজিক মিডিয়া ক্যাম্পেইন চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে ভক্তদের আগ্রহ বজায় থাকে এবং নতুন দর্শকগোষ্ঠী আকৃষ্ট হয়।
সামগ্রিকভাবে, ‘দ্য হাউসমেড’স সিক্রেট প্রকল্পটি প্রথম ছবির সাফল্যকে ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে এবং এতে মূল কাস্টের পুনরায় যুক্ত হওয়া, নতুন পরিচালক ও স্ক্রিনরাইটারদের অংশগ্রহণ, এবং বক্স অফিসের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত। এই সব উপাদান মিলিয়ে সিক্যুয়েলটি দর্শকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা প্রদান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



