বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গের একটি জনসভায় মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বজনীন সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বানার্জি নোটিশের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জানিয়ে দেন যে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন ও পুনর্বিবেচনা (SIR) প্রক্রিয়ার আওতায় নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রিকেটার মুহাম্মদ শামিকেও একই প্রক্রিয়ার নোটিশ প্রাপ্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নোটিশের মূল উদ্দেশ্য হল প্রার্থীর ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া, যা ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত করার পূর্বশর্ত।
SIR প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরিচালিত হয় এবং ভোটার তালিকায় নামের সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ তদন্ত চালায়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে তাদের নাগরিকত্বের নথিপত্র উপস্থাপন করতে বলা হয়। নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় দলিল জমা না করলে তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
অভিষেক বানার্জি জনসভার সময়ে উল্লেখ করেন, অমর্ত্য সেনের মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনকারী ব্যক্তিকে নোটিশ পাঠানো অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, তবে আইনগত প্রক্রিয়ার কোনো ব্যতিক্রম নেই। তিনি শামিকের ক্ষেত্রে একই কথা বলেন, যিনি ক্রিকেটে দেশের গৌরব বাড়িয়ে তুলেছেন, তবু নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা থেকে অব্যাহতি পাননি। বানার্জি এই নোটিশগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার ইঙ্গিতও দেন না, বরং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে গুরুত্ব দেন।
বীরভূমের জনসভায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কবি জয় গোস্বামী, তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য দীপক অধিকারী (দেব) এবং অভিনেতা কৌশিক বানার্জি সহ আরও কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিকেও একই SIR শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছে। এদের প্রত্যেকের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। এই তালিকায় উল্লেখিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্বকারী, যা প্রক্রিয়ার বিস্তৃততা নির্দেশ করে।
নোটিশ প্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এখন থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পাসপোর্ট, জন্ম সনদ, বাসস্থান প্রমাণ ইত্যাদি জমা দিতে হবে। জমা না হলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের অধিকারও হারাতে পারে। এই প্রক্রিয়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষার জন্য চালু করা হয়েছে, তবে প্রভাবিত ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জের মুখ।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ প্রকাশিত হয়নি, তবে বানার্জি উল্লেখ করেন যে পার্টি এই প্রক্রিয়ার ন্যায়সঙ্গততা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরও বলেন, পার্টির সকল সদস্য ও সমর্থককে আইন মেনে চলতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথি সময়মতো জমা দিতে হবে।
নোটিশের পরবর্তী ধাপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্বাচনী অফিসে উপস্থিত হয়ে তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ উপস্থাপন করবেন। যদি প্রমাণ যথেষ্ট না হয়, তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা হবে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার হারাবে। অন্যদিকে, প্রমাণ সন্তোষজনক হলে নোটিশের বিষয়টি সমাপ্তি পাবে এবং তালিকায় নাম বজায় থাকবে।
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ নোবেল বিজয়ী এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া তারকাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা সাধারণত কম দেখা যায়। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সকল নাগরিকের উপর সমানভাবে প্রয়োগ করা নীতি কোনো ব্যতিক্রম ছাড়া অনুসরণ করা হবে।
ভবিষ্যতে যদি কোনো আইনি চ্যালেঞ্জ উঠে আসে, তবে তা আদালতে নিয়ে যাওয়া হতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা বাড়বে। তাছাড়া, এই নোটিশগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার প্রয়োগ নিয়ে মতবিরোধের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অমর্ত্য সেন, মুহাম্মদ শামিক এবং অন্যান্য পরিচিত ব্যক্তিদের উপর নাগরিকত্ব যাচাই নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যা SIR প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভোটার তালিকায় নামের যথার্থতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। নোটিশের শর্ত পূরণ না করলে তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, আর পূরণ করলে প্রক্রিয়া সমাপ্ত হবে। এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনের সমান প্রয়োগের দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।



