রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদভ, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সাম্প্রতিক অপহরণ ঘটনার পর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসকে লক্ষ্য করে হুমকি প্রকাশ করেছেন। রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম তাস ও তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, মেদভেদভের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মের্ৎসের অপহরণ “একটি চমকপ্রদ ও মোড় ঘোরানো ঘটনা” হতে পারে এবং তা অবাস্তব নয়।
মেদভেদভ জোর দিয়ে বলছেন, জার্মানিতে মের্ৎসের বিরুদ্ধে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে, যা তাকে বিচারের মুখে আনার সম্ভাবনা তৈরি করে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের কোনো কাজের ফলে কোনো নাগরিকের ক্ষতি হবে না, বিশেষ করে যখন জার্মান জনগণ অযৌক্তিক কষ্টের শিকার হচ্ছে।
জার্মান সরকার মেদভেদভের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে, বার্লিনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারি মুখপাত্র সেবাস্তিয়ান হিলের বক্তব্য তুলে ধরেছে। হিল বলেছেন, জার্মান কেন্দ্রীয় সরকার সব ধরনের হুমকি কঠোরভাবে নিন্দা করে এবং মের্ৎস নিরাপদ ও সুরক্ষিত রয়েছেন।
মাদুরোর অপহরণ ঘটনার পটভূমি হল, শনিবার মার্কিন ডেল্টা ফোর্স ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে। অভিযানে ২০০ এরও বেশি মার্কিন সৈন্য অংশগ্রহণের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমানে মাদুরো নিউইয়র্কে মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি।
মেদভেদভ মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের “অবৈধ নেতা” দাবি প্রত্যাখ্যান করে, একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের কারাকাসের ওপর অভিযোগকে “অবৈধ” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে রাশিয়ার স্বার্থের প্রতি আক্রমণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
মাদুরোর পাশাপাশি, মেদভেদভ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কিকেও লক্ষ্যবস্তু করে মন্তব্য করেছেন। তিনি জেলেনস্কির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে এবং তাকে “অবৈধ নেতা” বলে উল্লেখ করেছেন, যা মস্কোর একই রকম অবস্থানকে সমর্থন করে। তবে ইউক্রেনের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ বৃদ্ধি বৈধ বলে বিবেচিত হয়।
মেদভেদভের এই ধারাবাহিক হুমকি ও সমালোচনা রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তার মন্তব্যের পর, জার্মান সরকার ইতিমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়ে চ্যান্সেলরের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।
মেডভেদভের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শুরু হয়, এরপর তিনি নিরাপত্তা কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ পদে অব্যাহত রয়েছেন। তার বর্তমান অবস্থান থেকে তিনি রাশিয়ার কূটনৈতিক নীতি ও নিরাপত্তা কৌশল গঠনে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের প্রতি রাশিয়ার এই ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক আইনের সীমা অতিক্রমের সম্ভাবনা তুলে ধরছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের পর মেদভেদভের মন্তব্যগুলোকে রাশিয়ার কূটনৈতিক উত্তেজনার সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জার্মান সরকার এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন চেয়ে, রাশিয়ার কোনো হুমকি মোকাবিলায় যৌথ পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্কতা বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মেডভেদভের মন্তব্যের ফলে রাশিয়া-ইউরোপ সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়তে পারে, বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোতে নিরাপত্তা নীতি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
অবশেষে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রাশিয়ার এই ধরনের রেটোরিক্যাল পদক্ষেপকে কূটনৈতিক সংঘাতের নতুন পর্যায় হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন, যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।



