বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এর উপস্থাপনা প্যানেল থেকে ভারতীয় উপস্থাপক রিধিমা পাঠককে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বিসিবি জানিয়েছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ঘটিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ধারাবাহিকতা।
বিপিএল এই সিজনে আন্তর্জাতিক মুখের উপস্থিতি বাড়াতে বেশ কিছু নতুন নাম যুক্ত করেছিল। উপস্থাপক হিসেবে পাকিস্তানের জয়নব আব্বাসের সঙ্গে রিধিমা পাঠক ছিলেন, আর ধারাভাষ্য টেবিলে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও প্রাক্তন পিসিবি চেয়ারম্যান রমিজ রাজা এবং ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ড্যারেন গফের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সংমিশ্রণ দর্শকদের জন্য নতুন রঙের প্রত্যাশা জাগিয়ে তুলেছিল।
তবে, বাংলাদেশ‑ভারত রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুতই ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ে। ৩ জানুয়ারি শনিবার, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্সের স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া হয়। সূত্র অনুযায়ী, উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মোস্তাফিজের এই বাদ হওয়ার পর, বিসিবি জরুরি সভা ডেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে। আইসিসি (ICC) কে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয় যে, নিরাপত্তা সমস্যার কারণে বাংলাদেশি দলকে আসন্ন টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতীয় মাটিতে খেলা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের ম্যাচের ভেন্যুকে ভারত থেকে অন্য কোনো দেশে স্থানান্তর করার দাবি করা হয়।
এই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ধারাবাহিকতায়, ৫ জানুয়ারি সোমবার বাংলাদেশ সরকার দেশীয় অপারেটরের মাধ্যমে আইপিএল (IPL) সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই পদক্ষেপটি ক্রীড়া ও মিডিয়া ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
উপরোক্ত সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, বিসিবি রিধিমা পাঠককে বিপিএল উপস্থাপনা প্যানেল থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে উপস্থাপক প্যানেল পুনর্গঠন করা হয়েছে। রিধিমা পাঠকের বদলে কোনো নতুন ভারতীয় মুখ যুক্ত করা হবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিপিএল সংগঠকরা এই পরিবর্তনকে একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যাতে লিগের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা যায়। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক উপস্থাপক ও বিশ্লেষকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে লিগের গ্লোবাল আকর্ষণ বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
বিসিবি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে বিপিএলের অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছে। তাছাড়া, টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি ও আইপিএল সম্প্রচারের নিষেধাজ্ঞা ক্রীড়া ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রতিফলন।
বিপিএল এই সিজনে এখনও চলমান, এবং নতুন উপস্থাপক প্যানেল কিভাবে গঠন হবে তা শীঘ্রই জানানো হবে। দর্শক ও ভক্তদের জন্য লিগের গুণগত মান বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনো প্রধান অগ্রাধিকার।



