মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার মঙ্গলবার মার্কিন মিডিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রকাশ করেন। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পক্ষ গ্রিনল্যান্ডকে নিয়ে সামরিক সংঘাতে জড়াবে না এবং ন্যাটো ও আর্কটিক নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এই মন্তব্যটি ডেনমার্কের অধীনস্থ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চলমান আলোচনার প্রেক্ষিতে এসেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চাপের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল।
স্টিফেন মিলার, যিনি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে (২০২৫ থেকে) হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী অবস্থানকে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে গ্রিনল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত। তিনি ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডের ওপর দাবির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এবং জোর দেন যে কোনো সামরিক হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো নেতৃত্বের স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করবে না।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের প্রতিক্রিয়া তীব্র ছিল। তিনি পূর্বে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জোরালো মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্র যদি অঞ্চলটি দখল করে, তবে তা ন্যাটোর সমাপ্তি ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেন। ফ্রেডেরিকসেনের এই মন্তব্যের পর, ইউরোপের ছয়টি মিত্র দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড এবং স্পেন—মঙ্গলবার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ডেনমার্কের সমর্থন জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে নেওয়া উচিত এবং আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
এই বিবৃতি ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বকে তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় শক্তি আর্কটিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও জাতিসংঘের নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে, তবে তা ন্যাটোর সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে করা উচিত। মিলারের মন্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি স্পষ্ট হয়ে দাঁড়ায় যে, গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে অগ্রাহ্য করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, বরং কূটনৈতিক ও কৌশলগত উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করা হবে।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত প্রশ্নে, ডেনমার্কের সরকার এখনও গ্রিনল্যান্ডকে তার উপনিবেশ হিসেবে দাবি করে, যদিও আন্তর্জাতিক আইনে এই দাবির ভিত্তি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। মিলার এই বিষয়টি উল্লেখ করে ডেনমার্কের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে পুনরায় জোর দেন যে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই অবস্থান ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়াতে পারে। ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আর্কটিকের নিরাপত্তা ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক অবস্থান আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট নীতি এবং ডেনমার্কের দৃঢ় বিরোধিতা উভয়ই আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে, যা পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে।
সারসংক্ষেপে, স্টিফেন মিলারের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের নীতি স্পষ্ট করে যে গ্রিনল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কোনো সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা নেই, এবং ন্যাটো ও আর্কটিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। একই সঙ্গে, ডেনমার্কের সরকার ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের যৌথ বিবৃতি গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করার আহ্বান জানায়, যা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমঝোতার ভিত্তি হতে পারে। এই দ্বিমুখী অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য আর্কটিকের কৌশলগত গুরুত্ব এবং ন্যাটো-যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকা পুনর্বিবেচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।



