মেটা রে‑ব্যান ডিসপ্লে গ্লাসের আন্তর্জাতিক বিক্রয় পরিকল্পনা অস্থায়ীভাবে থামানো হয়েছে। কোম্পানি জানিয়েছে, চাহিদা অপ্রত্যাশিতভাবে বিশাল এবং সরবরাহ সীমিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মেটা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের অর্ডার পূরণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় প্রবেশের সময়সূচি পরবর্তীতে নির্ধারিত হবে।
এই স্মার্ট গ্লাসটি প্রথমবার সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত হয় এবং রে‑ব্যান ও মেটা যৌথভাবে তৈরি করেছে। গ্লাসের মূল নিয়ন্ত্রণ ইউনিট হল মেটা নিউরাল ব্যান্ড, যা কব্জিতে পরা যায় এবং সূক্ষ্ম হাতের অঙ্গভঙ্গি শনাক্ত করে। ব্যবহারকারী সহজে গ্লাসের বিভিন্ন ফাংশন চালু করতে পারে, যেমন স্ক্রিনে তথ্য দেখা বা অডিও নিয়ন্ত্রণ। এই প্রযুক্তি হাতে-হাতে ইন্টারফেসের নতুন দিক উন্মোচন করেছে।
প্রাথমিকভাবে ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা এবং যুক্তরাজ্যসহ চারটি দেশে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে গ্লাসের প্রকাশের পর থেকে অর্ডার তালিকা ২০২৬ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে গেছে। অপেক্ষা তালিকায় নাম লেখানোর পর গ্রাহকরা বহু মাসের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই অতিরিক্ত চাহিদা মেটাকে আন্তর্জাতিক লঞ্চ পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।
মেটা উল্লেখ করেছে, গ্লাসের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি এবং স্টক দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। সরবরাহ শৃঙ্খলে সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পৌঁছাতে সময় লাগবে। তাই কোম্পানি সাময়িকভাবে বিদেশি বিক্রয় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের সেবা অব্যাহত রাখতে পারে।
বর্তমানে মেটা যুক্তরাষ্ট্রের অর্ডার পূরণে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে এবং সরবরাহ চেইন পুনর্মূল্যায়ন করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গ্লাসের প্রাপ্যতা পুনরায় নির্ধারণের জন্য অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। মেটা আশা করছে, সরবরাহ সমস্যার সমাধান হলে ভবিষ্যতে পুনরায় লঞ্চ করা সম্ভব হবে। এই সময়ে তারা গ্রাহকের সন্তুষ্টি ও পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত CES-এ মেটা গ্লাসের নতুন ফিচার উপস্থাপন করেছে। নতুন টেলিপ্রম্পটার ফিচার ব্যবহারকারীকে প্রস্তুত বক্তব্য সহজে পড়তে সহায়তা করে, যা ভিডিও কনটেন্ট তৈরিতে সুবিধা দেয়। এছাড়া, নিউরাল ব্যান্ড দিয়ে যে কোনো পৃষ্ঠে আঙুলের লেখাকে ডিজিটাল টেক্সটে রূপান্তর করা যায়। এই ফিচারগুলো গ্লাসকে দৈনন্দিন কাজের সহায়ক টুলে রূপান্তরিত করেছে।
গ্লাসের পথনির্দেশ ফিচারও সম্প্রসারিত হয়েছে; এখন ডেনভার, লাস ভেগাস, পোর্টল্যান্ড এবং সল্ট লেক সিটি শহরে পেডেস্ট্রিয়ান নেভিগেশন ব্যবহার করা যায়। ব্যবহারকারী গ্লাসের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে পথ নির্দেশনা পেতে পারেন, যা শহরের ভ্রমণকে সহজ করে। এই আপডেটটি গ্লাসের ব্যবহারিকতা বাড়িয়ে তুলেছে। মেটা এই ধরনের ফিচার দিয়ে মিক্সড রিয়েলিটি অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করতে চায়।
মেটা ও রে‑ব্যানের এই সহযোগিতা অগমেন্টেড রিয়েলিটি বাজারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। হাতের অঙ্গভঙ্গি দিয়ে গ্লাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে শারীরিক বাধা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রযুক্তিটি ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং উৎপাদন খাতে ব্যাপকভাবে প্রয়োগের সম্ভাবনা রাখে। গ্লাসের বহুমুখী ফিচারগুলো দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির সংযোজনকে সহজ করে তুলবে।
সরবরাহ সমস্যার সমাধান হলে, মেটা আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় লঞ্চের পরিকল্পনা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে গ্লাসের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হবে। মেটা বর্তমানে বাজারের চাহিদা ও উৎপাদন ক্ষমতা সামঞ্জস্য করার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় তারা প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গ্রাহক সেবার মান বজায় রাখবে।
সংক্ষেপে, মেটা রে‑ব্যান ডিসপ্লে গ্লাসের আন্তর্জাতিক লঞ্চ সাময়িকভাবে স্থগিত, তবে যুক্তরাষ্ট্রে অর্ডার পূরণে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে। নতুন টেলিপ্রম্পটার, হ্যান্ড‑রাইটিং ট্রান্সক্রিপশন এবং বিস্তৃত পথনির্দেশ ফিচার গ্লাসকে আরও ব্যবহারিক করে তুলেছে। মেটা ভবিষ্যতে সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল হলে আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় প্রবেশের সম্ভাবনা রাখে।



