অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম মঙ্গলবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে বিশদ বক্তব্য রাখেন। তিনি উল্লেখ করেন, যারা এখনও নির্বাচনের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের ওপর সরকার কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে।
শফিকুল আলমের বক্তব্যের মূল বিষয় হল, দেশের ইতিহাসে তিনটি বড় ইভেন্ট—হাদির জানাজা, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং খালেদা জিয়ার জানাজা—কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। এই সফলতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা ও সরকারের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এছাড়া, পোস্টাল ব্যালেটের জন্য অনলাইন নিবন্ধনের সংখ্যা অপ্রত্যাশিতভাবে উচ্চ হয়েছে। মোট ১৫,৩৩,৬৩৩ জন নাগরিক অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন, যা পূর্বের অনুমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। তবে, দেশের অভ্যন্তরে ৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন সরকারি দায়িত্বে নিযুক্ত থাকায় সরাসরি ভোট দিতে পারবেন না।
সরকারি পক্ষ থেকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে উৎসাহিত করার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রচারণা মিডিয়া, সামাজিক নেটওয়ার্ক এবং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন অর্জনে লক্ষ্য রাখবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ বলে শফিকুল আলম জানান। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পরিকল্পনা ইতিমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। এছাড়া, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে ৭০ শতাংশের প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে, যা মাঠে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষক এখনও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা দাবি করেন, পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ ও স্বচ্ছতা না থাকলে ভোটের ফলাফলকে প্রশ্ন করা যাবে। তবে সরকার এই উদ্বেগকে দৃষ্টিগোচর করে, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে ভোটের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে চায়।
এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা সফল হয় এবং ভোটের ফলাফল অনুকূল হয়, তবে বর্তমান সরকারকে শক্তিশালী বৈধতা অর্জন হবে। অন্যদিকে, সন্দেহভাজনদের ওপর বাড়তি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা বাড়াতে সহায়তা করবে।
শফিকুল আলমের মন্তব্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা যায়। ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুতি ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
সারসংক্ষেপে, সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে, পোস্টাল ব্যালেটের নিবন্ধন সংখ্যা রেকর্ড উচ্চে পৌঁছেছে এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালাবে। একই সঙ্গে, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে ভোটের স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্য স্পষ্ট হয়েছে।
এইসব পদক্ষেপের ফলাফল কী হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে, তবে বর্তমান অবস্থায় সরকার নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা ও ফলাফলকে বৈধতা প্রদান করার দিকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।



