অন্তর্বর্তী সরকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে কঠোর পরিকল্পনা চালু করেছে, এদিকে যশোরে এক বরফকল ব্যবসায়ীকে চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বলে গুলি করে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। দুটোই আজকের প্রেস সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হচ্ছে।
দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিশদে জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদান ও নিবন্ধনের জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং এখন পর্যন্ত ১৫,৩৩,৬৮২ জন ভোটার এই সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছেন। এছাড়া ‘ভোটের গাড়ি’ চালু করা, পোস্টাল ভোটের জন্য মোবাইল অ্যাপ চালু করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য দ্রুত বডিক্যাম ক্রয়সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শফিকুল আলমের মতে, নির্বাচনের আগে যে কোনো বিভ্রান্তি বা গুজব ছড়ানো ব্যক্তিরা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের প্রোফাইল প্রকাশ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে।
একই সময়ে, যশোরের মনিরামপুরে এক বরফকল ব্যবসায়ীকে গুলি করে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। রানা প্রতাপ বৈরাগী, ৩৮ বছর বয়সী, কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রাম থেকে আসা, তার বরফ তৈরির কারখানা কপালিয়া বাজারে অবস্থিত এবং তিনি নড়াইলের দৈনিক বিডি খবর নামের পত্রিকায় একসময় ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রানা দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং এই হত্যাকাণ্ডটি ঐতিহাসিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ ঘটনাটির বিশ্লেষণ করে বলেন, রানা প্রতাপের হত্যাকাণ্ডে কোনো ধর্মীয় বা সাংবাদিকতার সম্পর্ক নেই; এটি মূলত চরমপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে পুরোনো বিরোধের ফলাফল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রানা একসময় একটি সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ছিলেন, তবে তার মৃত্যু কোনো ধর্মীয় প্রোফাইলের সঙ্গে যুক্ত নয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রধান ভূমিকা পালন করেছে এবং পূর্বের শত্রুতার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তদন্ত চলমান থাকলেও, এখন পর্যন্ত কোনো ধর্মীয় বা সাংবাদিক সংযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এই দুই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপগুলো ভোটারদের আস্থা বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে যশোরের হত্যাকাণ্ড চরমপন্থী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে সরকারের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি দাবি করবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীর দমনমূলক পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডিক্যামসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াবে বলে জানিয়েছে, যা ভোটের সময় কোনো অনিয়ম দ্রুত সনাক্ত করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, চরমপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।
যশোরে রানা প্রতাপের মৃত্যু স্থানীয় সমাজে শক সৃষ্টি করেছে এবং চরমপন্থী গোষ্ঠীর কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। সরকার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এখন এই হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ তদন্তে মনোযোগ দেবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা চালু করেছে, আর যশোরে চরমপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এক ব্যবসায়ীর হত্যাকাণ্ড দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করছে। উভয়ই দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে।



