মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর কেওয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পানাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ (৬ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ স্কাউটস ঢাকা অঞ্চলের উপ-পরিচালক শাকিলা ইয়াসমিনের পরিদর্শনের আওতায় এসেছে। দু’টি বিদ্যালয়ে স্কাউটিং কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা জানার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে এই সফর অনুষ্ঠিত হয়।
শাকিলা ইয়াসমিন স্কাউটসের কাবিং ইউনিটকে আরও সক্রিয় করতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটাতে এই পরিদর্শন করেন। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদেরকে জানিয়ে বলেন, জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি স্কাউটিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করলে শারীরিক শক্তি ও মানসিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
উত্তর কেওয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। শাকিলা ইয়াসমিন স্কাউটিংয়ের মৌলিক নীতি, দলগত কাজের গুরুত্ব এবং স্বেচ্ছাসেবী সেবার মূল্য তুলে ধরে বলেন, “যদি তুমি দলগতভাবে কাজ করো, তবে তোমার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং সমাজে তোমার ভূমিকা স্পষ্ট হবে।”
পানাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই রকম সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এখানে তিনি শিক্ষার্থীদেরকে স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শারীরিক ব্যায়াম, প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা করার প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে প্রশ্ন করে এবং ভবিষ্যতে স্কাউটিং ক্লাব গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
মুন্সীগঞ্জ জেলার জেলা কমিশনার নাজমা চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহ দিয়ে বলেন, “শিক্ষা তোমাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে, তবে দায়িত্বশীল নাগরিক হতে স্কাউটিংয়ের মতো কার্যক্রমে অংশগ্রহণও অপরিহার্য।” তিনি স্কাউটিংকে সমাজের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।
কমিশনার চৌধুরী স্কাউটিংকে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক গঠন ও সামাজিক দায়িত্বের প্রশিক্ষণ হিসেবে মূল্যায়ন করে বলেন, “স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে তুমি নিজের সীমা চ্যালেঞ্জ করতে পারবে এবং অন্যের সাহায্য করতে শিখবে।” তিনি ভবিষ্যতে জেলা জুড়ে স্কাউটিং কার্যক্রমকে ধারাবাহিকভাবে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
শাকিলা ইয়াসমিন পরিদর্শনের সময় উল্লেখ করেন, মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে স্কাউট ইউনিটের পরিদর্শন করা হবে। এভাবে স্কাউটিংয়ের কাঠামোকে শক্তিশালী করে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষকবৃন্দের সহযোগিতা চেয়েছেন।
পরিদর্শনে বাংলাদেশ স্কাউটস জেলা সম্পাদক এডভোকেট মুজিবুর রহমান শেখ এবং জেলা কাব স্কাউট লিডার সাজ্জাত হোসেনও অংশ নেন। তারা স্কাউটিং কার্যক্রমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহিত করেন যে, স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে তারা নিজেরা নেতৃত্বের গুণাবলী গড়ে তুলতে পারে।
উভয় বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ স্কাউটিং ক্লাব গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ সামগ্রী সংগ্রহের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, শাকিলা ইয়াসমিনের নির্দেশনা অনুসরণ করে ভবিষ্যতে বিদ্যালয়গুলোতে স্কাউটিং কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালু হবে।
স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দলগত কাজ, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দায়িত্বের মূল্য শিখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ক্যাম্প, শিবির এবং সেবা কার্যক্রমের পরিকল্পনা করা হবে।
শাকিলা ইয়াসমিনের পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থীদেরকে একটি ছোট সেরেমনি দিয়ে স্কাউটিংয়ের মৌলিক শপথ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। শপথের মাধ্যমে তারা স্কাউটিংয়ের নীতি ও মূল্যবোধকে আত্মস্থ করার প্রতিশ্রুতি জানায়।
এই সফরটি স্কাউটিংকে শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কাউট ইউনিটের কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে ধারাবাহিক পরিদর্শন ও প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা করা হবে।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: যদি আপনার সন্তান বা পরিচিত কেউ স্কাউটিংয়ে আগ্রহী হন, তবে নিকটস্থ বিদ্যালয় বা স্কাউটসের স্থানীয় শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করে সদস্যপদ ও প্রশিক্ষণ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। স্কাউটিং শুধুমাত্র শারীরিক ব্যায়াম নয়, এটি নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার একটি কার্যকর উপায়।



