20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যস্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাজেট কাটে ৭৪ শতাংশ

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাজেট কাটে ৭৪ শতাংশ

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ – সরকার এই বছরের আর্থিক পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা বিভাগে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৭৪ শতাংশের বেশি বাজেট কমিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মৌলিক সেবা ও কর্মীসংখ্যা দু’ই উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।

বাজেট নথি অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা তহবিল প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন টাকা থেকে কমে ৩২০ বিলিয়ন টাকায় নেমে এসেছে। একই সময়ে, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত অর্থ ৪৫০ বিলিয়ন টাকা থেকে মাত্র ১১৫ বিলিয়ন টাকায় হ্রাস পেয়েছে।

গত অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে মোট ১.৬ ট্রিলিয়ন টাকা ব্যয় করা হয়েছিল, যা এই বছরের পরিকল্পনায় প্রায় অর্ধেকের কম। অর্থাৎ, মোট বাজেটের প্রায় ৭৪ শতাংশ কেটে ফেলা হয়েছে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো ও সামাজিক নেটের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

এই কাটছাঁটের ফলে টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি সীমিত হতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় চলমান টিকাদান ক্যাম্প ও গর্ভবতী নারীর জন্য প্রি-নাটাল সেবা হ্রাস পাবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা ক্ষেত্রে, বেকারত্ব ভাতা, দারিদ্র্য বিমোচন পরিকল্পনা এবং অস্থায়ী আয় সহায়তা প্রোগ্রামগুলোতে তহবিলের ঘাটতি দেখা যাবে। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হতে পারে।

অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানী ও বড় শহরে সেবা বজায় রাখতে কিছুটা তহবিল রিজার্ভ রয়েছে, তবে সিলেট, রংপুর ও বরিশাল মতো দূরবর্তী অঞ্চলে সেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই কাটছাঁটের কারণ হিসেবে দেশের সামগ্রিক আর্থিক ঘাটতি ও অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনা উল্লেখ করেছে। তবে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে জরুরি সেবা ও চলমান রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালু থাকবে।

সামাজিক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও একই রকম অবস্থান নিয়েছে, জানিয়ে যে মৌলিক সামাজিক সুরক্ষা স্কিমগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে তহবিলের পুনর্বণ্টন করা হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প ও নতুন উদ্যোগ স্থগিত করা হবে।

স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এত বড় বাজেট হ্রাস স্বল্পমেয়াদে সেবা মানের অবনতি ঘটাতে পারে এবং রোগের বিস্তার বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ডেঙ্গু, টিফস ও শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত সমাধানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সহায়তা চাওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কাটিয়ে তহবিলের কার্যকর ব্যবহার। এছাড়া, স্থানীয় স্তরে স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে সেবা পৌঁছানোর গতি বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

নীতিনির্ধারকদের জন্য জরুরি আহ্বান করা হচ্ছে যে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে তহবিলের পুনর্মূল্যায়ন করা হোক, যাতে মৌলিক সেবা বন্ধ না হয়। তদুপরি, বাজেট কাটের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় দ্রুত করা উচিত।

আপনার মতামত কী? স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা সেক্টরে এই ধরনের বাজেট হ্রাস আপনার পরিবার ও সম্প্রদায়কে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে আলোচনা করুন।

৭৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বাংলানিউজ২৪
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments