27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের ভিসা সমস্যায় ভারত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের ভিসা সমস্যায় ভারত

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে চলেছে। তবে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে একাধিক দল ভিসা জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। প্রথমে বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতীয় ভিসা থেকে বাদ পড়ে। এখন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের জন্য একই ধরণের বাধা দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশের অব্যাহতি ঘোষণার পর, যুক্তরাষ্ট্র, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি এবং কানাডার দলগুলোতে নির্বাচিত কিছু ক্রিকেটারকে ভারতীয় ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। এই খেলোয়াড়রা সবই পাকিস্তানীয় বংশের এবং তাদের অংশগ্রহণের জন্য ভিসা প্রয়োজন।

প্রতিটি সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ড এই সমস্যাটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এর দৃষ্টিগোচরে এনেছে। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর বা সমাধান পাওয়া যায়নি। ভিসা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি না হওয়ায় খেলোয়াড়দের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা ঝুঁকির মুখে।

এই ভিসা সমস্যার মূল কারণ হিসেবে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি উল্লেখ করা হচ্ছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ভিসা অনুমোদনের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে। ফলে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের জন্য ভিসা জারি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পাকিস্তান দলকে সরাসরি ভারত না গিয়ে শ্রীলঙ্কায় হাইব্রিড মডেল অনুসারে তাদের ম্যাচগুলো খেলতে হবে। হাইব্রিড মডেল মানে দলটি শ্রীলঙ্কা স্টেডিয়ামে শারীরিকভাবে উপস্থিত হবে, তবে কিছু ম্যাচের জন্য ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা থাকবে। এই ব্যবস্থা টুর্নামেন্টের সময়সূচি বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বকাপে মোট বিশটি দল অংশগ্রহণ করবে এবং পাঁচটি গ্রুপে ভাগ হবে। প্রতিটি গ্রুপে পাঁচটি করে দল থাকবে, এবং গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সুপার এইটের জন্য অগ্রসর হবে। সুপার এইটের পর সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল নির্ধারিত হয়েছে।

সেমিফাইনাল ম্যাচগুলো ৩ এবং ৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। বিজয়ী দলগুলো ফাইনালে মুখোমুখি হবে, যা ৮ মার্চ নির্ধারিত। ফাইনালের স্থান নির্ভর করবে পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্সের ওপর। যদি পাকিস্তান ফাইনালে পৌঁছায়, ম্যাচটি কলম্বো, শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। অন্যথায়, ফাইনালটি আহমেদাবাদ, ভারতের গুজরাটে হবে।

এই ভিসা সমস্যার ফলে টুর্নামেন্টের সময়সূচি এবং দলগুলোর প্রস্তুতি প্রভাবিত হতে পারে। ভিসা না পাওয়া খেলোয়াড়রা তাদের নিজ নিজ দেশের দলের কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন, তাই তাদের অনুপস্থিতি দলীয় গঠনকে বদলে দিতে পারে।

আইসিসি ও বিসিসিআই এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দেননি, ফলে সংশ্লিষ্ট দলগুলো বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে। কিছু দল ইতিমধ্যে শ্রীলঙ্কায় হাইব্রিড মডেল অনুসারে তাদের প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপন করেছে।

টুর্নামেন্টের মোট কাঠামো এবং সময়সূচি পরিবর্তন না হওয়ায়, ভিসা সমস্যার সমাধান না হলে টিমের পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা বা সমাধান প্রকাশিত হয়নি।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচগুলোতে ভারত ও শ্রীলঙ্কা নিজ নিজ হোম গ্রাউন্ডে খেলা হবে, যা ভক্তদের জন্য বড় আকর্ষণ। একই সঙ্গে, ভিসা সমস্যায় আক্রান্ত দলগুলোকে শ্রীলঙ্কার স্টেডিয়ামে খেলা হবে, যা টুর্নামেন্টের লজিস্টিক্সে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে যদি পাকিস্তান দল ফাইনালে পৌঁছায়, তবে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচটি ভিসা সমস্যার পরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হবে। অন্যথায়, আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ফাইনালটি ভারতীয় ভিসা নীতি ও ক্রীড়া কূটনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments