20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধফয়সাল করিম মাসুদ ভারতের মধ্যে লুকিয়ে আছেন, ডিবি প্রধান জানালেন

ফয়সাল করিম মাসুদ ভারতের মধ্যে লুকিয়ে আছেন, ডিবি প্রধান জানালেন

ডিবি (গোপন তথ্য সংস্থা) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে শ্রী শারিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত চার্জশিট দাখিলের ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন, ফয়সাল করিম মাসুদ দুবাই নয়, ভারতের সীমান্তে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

শারিফ ওসমান হাদি, যিনি ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত, রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ছিলেন এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনামূলক মন্তব্যের জন্য পরিচিত ছিলেন। তার এই অবস্থানই তাকে রাজনৈতিকভাবে অতিপরিচিত করে তুলেছিল।

হাদির মৃত্যু ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ঘটেছে। জুমা নামাজের পর বিজয়নগর এলাকায় রিকশা চালিয়ে তিনি গমন করছিলেন। হঠাৎ পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেল থেমে, দুইজন অপরাধী রিকশার দিকে এগিয়ে এসে শারিফকে গুলি করে। গুলি তার মাথায় আঘাত হানে, ফলে তিনি গুরুতর আঘাত পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তৎক্ষণাৎ অপারেশন করান। পরবর্তীতে একই রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দুই দিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা সত্ত্বেও ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।

হত্যার পর গৃহস্থালির নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহচর আলমগীর শেখ হাদির গুলি করার পর হালুয়াঘাট সীমান্ত পার হয়ে ভারতের মেঘালয়ে পলায়ন করেন। এই পলায়নকে রোধে গৃহস্থালির বাহিনীর দল ১২ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে, তবে পাঁচজন এখনও পলায়নকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ, মানব পাচারকারী ফিলিফ স্নাল, হত্যার নির্দেশদাতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী এবং ফয়সালের বোন জেসমিন অন্তর্ভুক্ত।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, হাদির হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা মূলত পল্লবীর প্রাক্তন ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর হাতে ছিল। তদন্তে এখন পর্যন্ত এটাই প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা প্রকাশ পায়, তবে অতিরিক্ত চার্জশিট দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে।

শারিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখন পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত ১২ জনের মধ্যে বেশিরভাগই অপরাধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে পলায়নকারী পাঁচজনের অবস্থান এখনও অনিশ্চিত। ডিবি ও পুলিশ বিভাগ তাদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ফয়সালকে ধরার চেষ্টা করছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, শারিফের হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের ধারা ৩৯১ (হত্যা) এবং সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী আইন প্রয়োগ করা হবে। ডিবি প্রধানের মতে, যদি অতিরিক্ত কোনো সহায়ক বা পরিকল্পনাকারী পাওয়া যায়, তবে তাদের ওপরও একই ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শারিফের পরিবার ও সমর্থকরা এখনো শোকাহত, তবে তারা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে চলেছেন। হাদির মৃত্যু এবং তার পরপরই প্রকাশিত তথ্যগুলো দেশের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।

ডিবি প্রধানের এই ঘোষণার পর, সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ফয়সাল করিম মাসুদকে ধরার জন্য ভারতীয় সীমানা পার হওয়া পথগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। আন্তর্জাতিক আইনগত সহযোগিতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বাড়ানোর মাধ্যমে পলায়নকারীকে গ্রেফতার করার প্রচেষ্টা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

শারিফের হত্যার চার্জশিট দাখিলের পর আদালতে মামলার শোনানির তারিখ নির্ধারিত হবে, এবং সংশ্লিষ্ট সকল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে। আদালত যদি অতিরিক্ত সন্দেহভাজনকে যুক্ত করে, তবে মামলাটি আরও বিস্তৃত হবে।

এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে। ডিবি প্রধানের বক্তব্য অনুসারে, ফয়সাল করিম মাসুদ এখনো ভারতের মধ্যে লুকিয়ে আছেন এবং তার পলায়ন রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments