রাজস্থানের কোটা শহরে রবিবার রাতের দিকে এক অস্বাভাবিক চুরির প্রচেষ্টা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ কুমার রাওয়াত ও তার স্ত্রী মন্দির থেকে বাড়ি ফিরে জানালেন, তাদের ঘরের এক্সজস্ট ফ্যানের ছিদ্রের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আটকে আছে। প্রায় দশ ফুট উচ্চতার ছিদ্রের মধ্যে চোরের মাথা ও হাত ঘরের ভিতরে, পা বাইরে ঝুলে ছিল।
দম্পতি প্রথমে চিৎকার করে পরিস্থিতি জানালেন, পরে চোরের অবস্থান ও কাজ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করলেন। চোরটি নিজে সামলাতে না পেরে হুমকি দিতে শুরু করে, জানিয়ে যে সে একাধিক সহচরীর সঙ্গে কাজ করে এবং তাকে ছেড়ে না দিলে দম্পতির ক্ষতি হবে।
এই সময় রাওয়াত দম্পতি দ্রুত নিকটস্থ থানা-তে ঘটনাটি জানিয়ে দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, আটকে থাকা ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। চোরটি ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার সহচরীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশের মতে, চোরটি যে গাড়িতে এসে পৌঁছেছিল, সেটি জব্দ করা হয়েছে। গাড়ির বাইরের দিকে ‘পুলিশ’ লেখা স্টিকার দেখা গিয়েছে, যা কীভাবে গাড়িতে লাগানো হয়েছিল, তা তদন্তের বিষয়। স্টিকারের উৎস ও ব্যবহার সম্পর্কে তদন্ত চলছে।
অধিক তদন্তে জানা গেছে, চোরটি বাড়ির ছাদে থাকা এক্সজস্ট ফ্যানের ছিদ্রের মাধ্যমে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, তবে ফ্যানের কাঠামো ও ছিদ্রের আকার তার জন্য যথেষ্ট না হয়ে আটকে যায়। স্থানীয় পুলিশ বিভাগ এই ধরনের চুরি প্রচেষ্টা রোধে বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরামর্শ দিচ্ছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, চোরকে চুরি, বাড়িতে অনুপ্রবেশ এবং হুমকি দেওয়ার জন্য আইনের ধারা অনুযায়ী অপরাধী হিসেবে গৃহীত করা হবে। বর্তমানে তাকে জেলখানায় রাখা হয়েছে এবং তদন্তের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত সাক্ষ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশের জানানো মতে, গাড়িতে থাকা ‘পুলিশ’ স্টিকারের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে, যাতে স্টিকারের উৎপত্তি ও সম্ভাব্য নকলের তথ্য বের করা যায়। এছাড়া, চোরের সহচরীদের সন্ধানে স্থানীয় পুলিশ দল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, পুরনো এক্সজস্ট ফ্যানের ছিদ্রগুলো চোরের জন্য সহজ প্রবেশের পথ হতে পারে, তাই বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত চোরের জিজ্ঞাসাবাদ চলমান এবং তার সহচরীদের ধরা পড়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। তদন্তের ফলাফল ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



