28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধপাথরঘাটায় এসআই ঘুষের চেষ্টা করে গ্রেফতার, মুচলেকা দিয়ে মুক্তি

পাথরঘাটায় এসআই ঘুষের চেষ্টা করে গ্রেফতার, মুচলেকা দিয়ে মুক্তি

বুধবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর প্রায় দুইটায় বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহরিয়ার জালালকে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত কক্ষ থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি একই সময়ে সিআর নং-৭৮০/২৩ মামলায় অভিযুক্ত মো. রাজু মিয়ার জামিনের জন্য বিচারকের কাছে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. পনির শেখ, যিনি মামলায় জড়িত, তার অনুমতি নিয়ে এসআই জালাল আদালতের কক্ষের ভিতরে প্রবেশ করেন। তিনি মামলার নথি দেখিয়ে রাজু মিয়ার জামিনের সুপারিশ করেন এবং রিকল (পুনরায় হাজিরা) চেয়ে জানান। একই সঙ্গে তিনি বিচারকের কাছে টাকা দিয়ে প্রভাব বিস্তার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।

বিচারক এই অনুরোধে অস্বস্তি প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত কোর্ট পুলিশ ইন্সপেক্টর, জিআরও ও আদালতের সহায়ক কর্মচারীদের নজরে বিষয়টি প্রকাশ পায়। তৎক্ষণাৎ কোর্টের নিরাপত্তা কর্মীরা এসআই জালালকে গ্রেফতার করে আদালতের খাস কামরা থেকে বের করে নেয়।

গ্রেফতার সম্পর্কে পাথরঘাটা থানার ওসির (অফিসার ইন চার্জ) এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) দ্রুত বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদার কাছে জানায়। জেলা সুপার গ্রেফতারকৃত কর্মকর্তার জন্য বিভাগীয় মামলার শর্তে মুচলেকা (বিলম্বিত মুক্তি) অনুমোদন করেন। শর্ত পূরণে বিকেল প্রায় পাঁচটায় পাথরঘাটা থানার ওসি মংচেনলা, জেলায় জিম্মা গ্রহণের দায়িত্বে, এসআই জালালকে মুচলেকা দিয়ে জিম্মায় রেখে দেন।

পাথরঘাটা থানার ওসি মংচেনলা জানান, বিচারকের আদেশপত্রে যেভাবে নির্দেশ থাকবে, তাতে অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মামলার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, বিচারকের কাছে ঘুষ দেওয়ার প্রচেষ্টা অপরাধমূলক এবং সিভিল সার্ভিস রুলসের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। গ্রেফতারকৃত এসআই জালালকে বর্তমানে থানার ওসির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলার অগ্রগতি অনুসারে শাস্তি নির্ধারিত হবে।

এই ঘটনার পর, পাথরঘাটা থানার উচ্চতর কর্মকর্তারা বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে জানিয়ে যথাযথ শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। জেলা সুপারের নির্দেশে, মুচলেকা শর্তে মুক্তি দেওয়া হলেও, তদন্তের ফলাফল এবং বিভাগীয় মামলার রায়ের ভিত্তিতে পুনরায় গ্রেফতার বা শাস্তি হতে পারে।

অধিকন্তু, পাথরঘাটা থানার ওসি মংচেনলা ভবিষ্যতে আদালতে কোনো অনুরূপ ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য সকল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা আবশ্যক।

এই ঘটনা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ লঙ্ঘন রোধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments