দুপুরে ৬ জানুয়ারি, সরকারী ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকের পর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) দামের অপ্রত্যাশিত উত্থান নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের দ্বারা গৃহীত দামের কারসাজি বন্ধ করা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা।
বাজারে দেখা গিয়েছে যে, কিছু বিক্রেতা ও মধ্যস্থতাকারী এলপিজি দামের ওপর অতিরিক্ত মার্জিন যোগ করে গ্রাহকদের অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করাচ্ছেন। এই ধরনের অনিয়মমূলক কার্যকলাপের ফলে গৃহস্থালির গ্যাস বিল বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের আর্থিক চাপ বাড়ছে এবং বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
শাসনব্যবস্থা এই সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম শহরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কিছু দোষীকে আদালতে হাজির করা হয়েছে, এবং রাজধানী ঢাকাতেও অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা চালু হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোকে ধীরে ধীরে বাজারের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক বলে আশা করা হচ্ছে।
শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে, বহু অপরাধীকে ইতিমধ্যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শাস্তি প্রয়োগের প্রক্রিয়া তিনটি স্তরে বিভক্ত: জেলা প্রশাসনের অধীনে প্রথম পর্যায়, পুলিশ কর্তৃক তদন্ত ও প্রয়োগ, এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকি। এই সমন্বিত পদ্ধতি দামের কারসাজি রোধে কার্যকরী প্রমাণিত হচ্ছে।
বাজারের গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসার ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের দায়িত্বে, যেখানে কেবল ২ শতাংশই সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের প্রোপেন-বিউটেন থেকে উৎপাদিত। এই পরিস্থিতিতে, বেসরকারি সরবরাহকারীদের দামের নীতি ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এলপিজি দামের নিয়ন্ত্রণে জড়িত কর্মকর্তারা জ্বালানি সচিব ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পরবর্তীতে জ্বালানি সচিব এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠক করে সরবরাহ শৃঙ্খল ও দামের স্বচ্ছতা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। এই সংলাপগুলো বাজারের স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরবরাহের দিক থেকে, গত মাসের তুলনায় এলপিজি আমদানি পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে কোনো ঘাটতি দেখা যায় না। তবে, আন্তর্জাতিক শিপিং নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু ক্ষেত্রে জাহাজীকরণে বিলম্ব ঘটছে, যা স্বল্পমেয়াদে সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, এই সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে চলতি মাসে তা সম্পূর্ণ সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম।
স্থানীয় উৎপাদন এবং আমদানি করা লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) উভয়ই গ্যাস সরবরাহের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। উভয় উৎসই পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করছে, ফলে বাজারে কোনো ঘাটতি বা সংকটের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি ভোক্তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম এবং শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দামের অস্বাভাবিক উত্থান ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে। বন্ধ থাকা গ্যাস বিক্রয় কেন্দ্রগুলো পুনরায় খোলার পরিকল্পনা চলমান, যা সরবরাহ চেইনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনবে। তবে, শিপিং নিষেধাজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ভবিষ্যতে দামের ওঠানামার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, সরকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম এবং শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এলপিজি দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি রোধে দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ পেয়েছে। সরবরাহের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদনের ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে দামের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শিপিং সমস্যার সমাধানে ত্বরিত কাজের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



