আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। একই নির্বাচনী এলাকায় যদি দুই বা ততোধিক প্রার্থীর নাম একদম একই থাকে, তবে ভোটারদের বিভ্রান্তি রোধে প্রার্থীর পিতার, মাতার অথবা স্বামীর নাম যুক্ত করে তালিকাভুক্ত করা হবে। এই নির্দেশনা ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, সব জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮ এর ধারা ৭(২) অনুসারে প্রার্থীর নামের তালিকা (ফরম‑৫) বর্ণক্রমে সাজানো হয়। তবে একই আসনে একই নামের একাধিক প্রার্থী উপস্থিত হলে ভোটারদের মধ্যে গুলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই ইসি এই ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি কোনো প্রার্থীর নাম অন্য প্রার্থীর সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল থাকে, তবে তার নামের সঙ্গে পিতার, স্বামীর অথবা মাতার নাম যুক্ত করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রয়োজন হলে বিধি ৯(১) অনুসারে বরাদ্দ করা প্রতীকের ক্রমানুসারে নামগুলো পর্যায়ক্রমে সাজিয়ে ফরম‑৫ প্রস্তুত করা হবে। এই প্রক্রিয়া ভোটারকে সঠিক প্রার্থী চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে এবং ব্যালট পেপার প্রস্তুতিতে সম্ভাব্য জটিলতা কমাবে।
ইসির এই পদক্ষেপের পেছনে মূল লক্ষ্য হল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা। একই নামের প্রার্থীরা কখনও কখনও স্বতন্ত্র বা দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যা ব্যালট পেপার মুদ্রণ এবং ভোটারদের সঠিক প্রার্থী নির্বাচনকে কঠিন করে তুলতে পারে। ইসি উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের পরিস্থিতি পূর্বে বেশ কয়েকবার দেখা গেছে এবং তা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারদের দায়িত্ব হবে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রার্থীর তালিকায় পিতার, স্বামীর বা মাতার নাম যুক্ত করে নতুন ফরম‑৫ প্রস্তুত করা এবং তা ব্যালট পেপারে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করা। এছাড়া, ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচন অফিসে তথ্যবহুল পোস্টার ও বিজ্ঞাপন স্থাপন করা হবে, যাতে তারা ভোটের সময় সঠিক প্রার্থীকে চিহ্নিত করতে পারে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে এই নির্দেশনা কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। কিছু রাজনৈতিক দল দাবি করেছে যে, নামের সঙ্গে অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করা ভোটারকে অতিরিক্ত তথ্যের বোঝা বাড়াতে পারে এবং প্রার্থীর পরিচয়কে জটিল করতে পারে। তবে ইসি জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র ভোটারকে সঠিক প্রার্থী নির্বাচন সহজ করার জন্য এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এই নির্দেশনা কীভাবে প্রয়োগ হবে তা নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে স্পষ্ট হবে। যদি কোনো প্রার্থী নামের পরিবর্তে পিতার বা স্বামীর নাম যুক্ত করে তালিকায় প্রবেশ করে, তবে তা ভোটার তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে এবং ভোটারকে তা যাচাই করার সুযোগ থাকবে। ইসির এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা এবং ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ইসি একাধিক প্রার্থীর একই নামের ক্ষেত্রে পিতার, স্বামীর বা মাতার নাম যুক্ত করে প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে, যা ভোটারকে সঠিক প্রার্থী চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। এই নির্দেশনা সকল জেলা প্রশাসক, রিটার্নিং অফিসার এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের দ্বারা অনুসরণ করা হবে, যাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় কোনো নামের গুলিয়ে যাওয়া না ঘটে।



