রংপুর বিভাগে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবের কারণে গত তিন দিনে ১,২৫০ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাপমাত্রা ৮.৬ থেকে ১১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে দোল খাচ্ছিল, যা বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসযন্ত্রের রোগে প্রবণ করে তুলেছে।
শীতজনিত রোগের তালিকায় নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, জ্বর, ডায়রিয়া এবং ব্রঙ্কিওলাইটিসের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই রোগগুলো শীতের তীব্রতা ও হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
রংপুর বিভাগে আটটি জেলার হাসপাতাল ও আপাজিলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে মোট ১,২৫০ শিশু ভর্তি হয়েছে। রংপুরে ৩৫০, দিনাজপুরে ১৯০, লালমনিরহাটে ৯০, কুড়িগ্রামে ১৮০, নীলফামারিতে ১৩০, গাইবান্ধায় ১২০, থাকুগাঁও ও পঞ্চগড়ে প্রত্যেকটি জেলায় ৯৫ করে রোগী ভর্তি হয়েছে।
এছাড়া একই সময়ে ৪,০০০েরও বেশি শিশু আউটপেশেন্ট সেবা পেয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়ার ফলে হাসপাতালের শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চাপ বেড়েছে, বিশেষত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক বিভাগে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুরা বেশিরভাগই এক থেকে পাঁচ বছর বয়সের, এবং শয্যা ঘাটতির কারণে একাধিক রোগীকে একই শয্যায় শেয়ার করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি রোগীর আরাম ও সঠিক চিকিৎসা প্রদানকে কঠিন করে তুলেছে।
একজন স্থানীয় মা, তাজহাট এলাকার বাসিন্দা, জানান যে তার এক বছর বয়সী শিশুর শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে, বিশেষত রাতের শীতের সময়। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটি হঠাৎ শ্বাস নিতে সমস্যায় পড়ে, ফলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। তিনি একই সময়ে অন্য একটি শিশুর মৃত্যুর সাক্ষী হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মধুপুর গ্রাম, কাউনিয়া আপাজিলার আরেকজন মা জানান, তার তিন বছর বয়সী সন্তান একদিন বিকেলে মাঠে খেলছিল, তবে রাতের শীত হঠাৎ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। আপাজিলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে রেফারেল পেয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. তপন কুমার রায়ের মতে, শীতের সময় শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ে, বিশেষত শ্বাসযন্ত্রের রক্ষা ক্ষমতা কমে যাওয়া শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে গরম কাপড়ে ঢাকা, ঘরে হিটার চালু রাখা এবং অতিরিক্ত ভেজা পরিবেশ এড়ানো জরুরি।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, শীতের সময় শিশুর ত্বক ও পা-হাত গরম রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তীব্র শীতের সময় বাইরে যাওয়া সীমিত করা, ঘরে হালকা শারীরিক ব্যায়াম এবং সঠিক পুষ্টি বজায় রাখা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
অবশেষে, অভিভাবকদের জন্য জরুরি সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে যে, শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা শ্বাসজনিত অস্বস্তি দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করা উচিত। শীতের প্রভাব কমাতে সম্প্রদায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং সময়মতো চিকিৎসা সেবা গ্রহণই শিশুর সুস্থতা রক্ষার মূল চাবিকাঠি।



